সুন্দর জিনিসগুলোকে পরিপাটি করে সাজাবো

সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জ পৌরসভা। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রায় একশ’ বছর আগে যাত্রা শুরু করে এ পৌরসভাটি। তাইতো বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে ২২.১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার সঙ্গে। বর্তমানে প্রতিদিন নানা বাস্তবমুখী নাগরিক সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছেন পৌর মেয়র নাদের বখত। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
এজন্য মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে সবকিছু ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা তার। তবে উনড়বয়ন রুপান্তর, স্মৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে উন্নয়ন চলবে পরস্পরের পরিপুরক হয়ে এই আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মেয়র নাদের বখ্ত এবার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত¦ গ্রহণ করেছেন। প্রথমবার উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০১৮ সনের ৩০ এপ্রিল। দ্বিতীয়বার এর ব্যতিক্রম হয়নি। দলীয় প্রতীক নৌকায় নির্বাচন করে গণরায়ে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ পৌরপিতা।
তাঁর কাছে পৌরসভার সমস্যা- সম্ভবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। এক ঘন্টা আলাপ চারিতায় তিনি নানা সমস্যা ও সম্ভবনার কথা জানান এ প্রতিবেদককে। প্রথম প্রশস্ত ছিলো বর্তমানে পৌরসভার প্রধান সমস্যা কি বলে মনে করছেন?
নাদের বখত বললেন, বর্তমানে পৌরসভার প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধা তৈরি হয়। সমস্যা হিসেবে এটি চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য কাজ করছি। এজন্য প্রতিটি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে সংস্কার করা হচ্ছে। ড্রেন সংস্কারের এ কাজ শেষ পর্যায়ে।
পৌরসভার ভেতরে অবকাঠামোগত উনড়বয়নের জন্য ইউজিআইআইপি প্রজেক্ট- ৩ এর আওতায় প্রায় একশত ত্রিশ কোটি টাকার উনড়বয়ন কাজ চলছে। এ কাজগুলোর মধ্যে প্রধান হলো সড়ক ড্রেন সংস্কার ও নির্মাণ। এ বরাদ্দে শহরের ৯টি ওয়ার্ডে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে উনড়বয়ন কাজ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। একাজগুলো সম্পন্ন হলে শহরে জলাবদ্ধতা নিরসন সহ পৌর নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন হবে।
পৌর নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে আর কি করার পরিকল্পনা রয়েছে আপনার?
এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বললেন, আমার পৌরসভার অনেক এলাকায় এখনও গ্রাম রয়েছে। সেখানে বেকার যুবকদের নিয়ে কাজ করতে সুবিধা হবে। সেসব এলাকায় বেকারদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই। বিশেষ করে হাঁস-মুরগীর খামার, মৎস্য খামার করতে চাই তরুণদের দিয়ে। এগুলোর মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভশীলতার পাশাপাশি নিজে আরও কয়েকজনকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারবে।
মেয়র নাদের বখত বললেন, বাংলাদেশের মোট ৩২৮ টি পৌরসভা রয়েছে। প্রতিটি পৌরসভা ইউজিআইআইপি আওতায় মেগা প্রজেক্ট পায়। সেই মেগা প্রজেক্টকে স্বপ্নের প্রজেক্ট হিসেবে বলা হয়েছে। এ প্রজেক্টের ৩ নম্বও বরাদ্দের আওতায় আমার পৌরসভায় উন্নয়নের কাজ চলছে। ইউজিআইআইপি প্রজেক্টের চতুর্থ বরাদ্দের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান মহোদয়ের ডিও লেটারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। এই প্রজেক্টের পরিমাণ হবে একশ’ কোটি থেকে দু’শত কোটি টাকা। একশ’ ত্রিশ কোটি টাকার শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হয়তো সামনের বছরে এগুলো শেষ হবে।
আপনি নতুন করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় বার দায়িত্ব নিয়েছেন। আগামী ৫ বছরে পৌরবাসির জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
এমন প্রশ্নের জবাবে নাদের বখত বললেন, সড়ক বা ড্রেনের উনড়বয়ন আমাদের শহরের চলমান উন্নয়ন, যা হচ্ছে। একটি শহরের পরিচয় বহন করে শহরের সৌন্দর্যের উপরে। আমাদের শহর প্রায় একশত বছরের পুরোনো শহর। সে বিবেচনায় দেখার মতো কিছুই হয় নি। প্রয়াত মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল’র মাধ্যমে একটি রিভার ভিউ পেয়েছিলাম। সামনে ইউজিআইআইপি প্রজেক্টের চতুর্থ বরাদ্দ পেলে শহওে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
মেয়র বললেন, প্রথমে বিনোদনের জন্য একটি পার্ক করা হবে। পার্কের জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন প্রয়াত মেয়র মহোদয়। সেখানে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন একটি পার্ক নিমার্ণ করা হবে। এছাড়াও একটি সুন্দর সুইমিং পুলও নির্মাণ করা হবে। সেখানে পৌর নাগরিকরা চাইলেই অবকাশ যাপন করবেন। একটি করে আধুনিক কবরস্তান ও শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে। এখন সব উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শহরের মাঝখানে। এটাকে বিকেন্দ্রীকীকরণ করা হবে। এজন্য এ বিদ্যালয়গুলো ছাড়াও শহরে আরও ৪টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় করা হবে। সেগুলো একজায়গায় না করে একটি হবে পৌরসভার শেষ সীমানায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, পৌরসভার আরেক অংশ ১ নম্বর ওয়ার্ডে হবে আরেকটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অন্য দুটি ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও মধ্য শহর বড়পাড়ায় একটি একটি করে হবে।
মার্কেট সম্পর্কে মেয়র বললেন, আমাদের ২টি মার্কেটের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি পৌর মার্কেট। এ মার্কেটটি ইতিমধ্যে বুয়েটের গবেষক দল ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। এটি একটি আধুনিক মার্কেটে রুপান্তরিত করা হবে। পুরোনো পৌর কলেজের জায়গায় একটি
দৃষ্টিনন্দন কমিউনিটি সেন্টার করা হবে। সেখানে সমাজের নি¤œ আয়ের মানুষজন উচ্চ বিত্তের মতো বিয়ে সহ সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো করতে পারবে।
এছাড়াও নাগরিকদের চলাচলের জন্য মিনি বাসের ব্যবস্থা করা হবে। ২০ সিটের বাস চলবে পৌরসভার ভেতরে। সবনি¤œ ২টি পৌর অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।
এই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে কম খরচে পৌরসভার নাগরিক সহ আশেপাশের মানুষজন সেবা পাবেন।
বর্তমান পৌর ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পেছনের দিকে বড় করা হবে উল্লেখ করে মেয়র নাদের বখত বলেন, প্রয়াত ৩ বারের পৌর চেয়ারম্যান মমিনুল মউজদীনের আমলে ৫ টি প্রাইমারি বিদ্যালয় হয়েছিলো। এ বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নাজুক। আমি দায়িত্ব নেবার পর কিছুটা সংস্কার করেছি। সামনের মেগা প্রজেক্টটি পেলে এই ৫টি বিদ্যালয়ের দুই তলা ভবন করা হবে।
আমরা সেবা দেয়ার জন্য আছি। আগামী ৫ বছওে শহরের অসুন্দর জিনিসগুলোকে সুন্দও করার চেষ্টা করবো। সুন্দর জিনিষগুলোকে পরিপাটি করে সাজাবো। দেশের মানুষ সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে যাতে চিনতে পারে সে লক্ষ্যে আগামী ৫ বছর কাজ করবো আমরা। সেজন্য সকল পৌর নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।