সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে ড. মোহাম্মদ সাদিক- সাম্প্রদায়িকতা যারা ছড়াতে চায় তাদের চিহ্নিত করতে হবে

স্বপন কুমার বর্মণ ও কাজী সালেহ্ আহমদ
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি’র) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন,‘সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প যারা ছড়াতে চায়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। নারীকে সম্মান করতে হবে। মানবজাতির সকল অগ্রগতিতে নারীর অবদান স্বীকৃত, মনে রাখতে হবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে হবে’।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে শনিবার বিকালে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ সাদিক এই মন্তব্য করেন।
ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন,‘যারা একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল, তারাই বলছে বাংলাদেশকে দেখে শিখতে হবে। বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু’র টাকা তুলে নিয়েছিল। তখন অনেকে বলেছিলেন পদ্মায় সাঁকোও তৈরি করতে পারবে না বাংলাদেশ। এখন ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু হচ্ছে। এটি উন্নয়নের ম্যাজিক। বিশ্বব্যাংকের গাড়ী যখন পদ্মার উপর দিয়ে যাবে, আমরা হাততালি দিয়ে তখন তাদের অভিনন্দিত করবো’।
ড.সাদিক বলেন,‘এক সময় দেশে ৪২-৪৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে ছিল। এখন দরিদ্র খুঁজে বের করতে হয়। ৭২ সালে দেশের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরে বাজেট হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।’
ড. সাদিক বলেন,‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা        দেশ স্বাধীন করেছিল বলেই আমি সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ের ছেলে সচিব হতে পেরেছি।’dsc08839
১৫ আগস্ট জাতির কলংকের দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেই যারা স্বাধীনতা চায়নি, তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।’
স্থানীয় বক্তাদের বক্তব্যের জবাবে ড. সাদিক বলেন,‘আমি ইলেকশন করবো না, আমার এই আকাঙ্খাও নেই। আমি সরকারি চাকুরিজীবী। তাছাড়া এমএ মান্নানের মতো গুণী মানুষ যে জেলায় মন্ত্রী আছেন, সেখানে আমি সাদিকের এমপি হবার প্রয়োজন নেই। তবে আমি যতদিন বেঁচে থাকবো। সুনামগঞ্জের জন্য কাজ করার স্বপ্ন থাকবে।’
সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পুনর্মিলনী উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে প্রাক্তন ছাত্র সাজ্জাদুর রহমান সাজু, রঞ্জন কুমার তালুকদার ও অনুপম চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- শিক্ষাবিদ প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুর রহমান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম মাস্টার, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফনি ভূষণ শর্মা, আব্দুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনা সভার আগে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। রাতে সঙ্গিত শিল্পী আসিকসহ স্থানীয় শিল্পীরা গান গেয়ে অনুষ্ঠান জমিয়ে রাখেন।