সুমতির মুখের সেপটিপিন এখন আমাদের মুখে

ইয়াকুব শাহরিয়ার
কুমার সৌরভ দাদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুমতির মুখে সেপটিপিন নিয়ে সুন্দর একটি পর্যালোচনা করার জন্য। নাটকটি দেখার জন্য এই নাটকেরই একজন শক্তিমান অভিনেতা বন্ধু আবদুস সালাম মাহবুব বেশ কয়েকদিন আগেই বলেছিলো। ঈদের পর পর নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ায় পাগলা বাজার থেকে আসতে পারিনি। নাটকটি দেখাও হয় নি। তাই একটি আফসোস কাজ করছিলো মনের মাঝে। তাবে এটা হলফ করে বলতে পারি, সৌরভ দা’র এ আলোচনার পর আমার আর বুঝতে বাকী নেই যে নাটকটিতে আমাদের জীবনের কথাই বলা হয়েছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে। আর অভিনয়ের মাধ্যমে যারা আমাদের সামনে এমন অসংগতিকে তুলে এনেছেন তাদের স্বার্থকতা বুঝাই যায় দাদার কথাতে। তাই আফসোসটা কমে গেছে।
দাদা একটি কথা সুন্দর করেই বলেছেন যে, এ নাটকের নাট্যকার গোলাম রাব্বী  ‘যে মনসাদ চরিত্র চিত্রণ ও সমকালীন সমাজচিত্র এঁকেছিলেন ৩৪ বছর আগে, সমাজ কি সেখান থেকে একটুখানিও গণমুখী হয়েছে? আমাদের (দর্শক তথা সাধারণ নাগরিক সমাজ) দিকে বুড়ি আঙুল বাড়িয়ে দেয়া মনসাদদের দাপট কি কমেছে এতটুকু? সকলেই বলবেন, না একটুও কমেনি। মনসাদদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।’
হ্যাঁ, সত্যি মনসাদদের অবস্থান আরো শক্ত হয়েছে। আমরা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছি, মনসাদদের খাস গোলামে পরিণত          হতে শুরু করেছি। সমাজে যারা প্রতিনিধিত্ব করে সুন্দর করে ঢেলে সাজানোর কথা তাদেরই একটা বিশাল অংশ এখন মনসাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে বা প্রতিনিধিত্ব করছে। হাওর দুর্নীতি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়াও আমাদের চোখের সামনে শতাশতি অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে অথচ আমরা প্রতিবাদ করছি না, কারণ সুমতির মুখের সেপটিপিন এখন আমাদের মুখে। আমরা নিচু হতে হতে এতটাই নিচু হয়েছি যে, হোটেলে গিয়ে নাস্তা করে ২০ টাকা টিপস দিয়ে আসি অথচ রিকশার ড্রাইভার ৫ টাকা বেশি চাইলে তাকে কান মলে দিতে উদ্যত হই। কিন্তু মনসাদদের নিরাময়ে আমরা কোনো ওষুধ ব্যবহার করছি না। আমাদের চোখের সামনেই মনসদরা এখন ক্রমশ প্রস্তুত থাকে কিভাবে মন্দির মসজিদ আর নিপীড়িত মানুষের জায়গা মেরে নিজেদের বাস্তুভিটা তৈরি করবে। তাদের এখন একটাই ধান্দা থাকে তাদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে পুরো তল্লাট, যেখানে আইন হবে তাদের তৈরি। আধুনিক এই সমাজের বিষফোঁড়াদের বেখাপ্পা বুড়ো আঙ্গুল আমাদের দেখিয়ে বিশ্রী রকমের হাসি দেবে। আমাদের সামনে পানির মতো করে খাবে নেশার রস। আমরা প্রতিবাদমুখর হতে পারছি না- কারণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক শত বাধার কারণে। তবে এটা চলবে না। এটা বন্দের ডাক শুরু হবে এমনকি হচ্ছেও।
হ্যাঁ, এখন এইটা শুরু হচ্ছে- মাস্টারের নেতৃত্বে ফরিদ ও মনসুরের মতো প্রতিবাদ হচ্ছে। শুরু হয়েছে, তাই সমাজের আগাছারা ক্রমশ বেরিয়ে আসছে। আমরা খবরের কাগজে দেখছি। মঞ্চে বসে সুমতির মুখে সেপটিপিন দেখেছেন অনেক গুণিজন। তাঁরা বর্তমানে একটি স্বাপ্নিক সুন্দর সমাজের চিত্র এঁকে চলেছেন। তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা নাটকের রস আস্বাদনে আমাদের চেয়ে শতগুণ এগিয়ে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকবার রাস্তা আপনাদের জানা। নাটকের খল চরিত্র মনসাদের মতো বাস্তব সমাজের খলদের বের করে আনতে ভূমিকা রাখলে ক্রমশ আমাদের মুখের সেপটিপিনও খুলে যাবে।
লেখক: সাংবাদিক