টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাই পৌর এলাকার দোওজ গ্রামে মনোরম পরিবেশে একই স্থানে যাত্রা শুরু করেছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্ষিয়াণ রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজের উদ্যোগে ৩ একর জায়গায় গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠান দু’টি। নামকরণ করেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।
আগামী ১৬ জুলাই শনিবার শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ প্রতিষ্ঠান দু’টির উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দু’টি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির লোকজন।
দুই উপজেলাবাসীর রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষের দাবি রাজনীতির পড়ন্ত বিকেলে শিক্ষার প্রসারে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নিজে নামে দিরাই শহরে ব্যতিক্রমধর্মী দু’টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় হাওরপাড়ের দুই উপজেলাসহ জেলার নারী শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে এলাকার ছেলে মেয়েরা।
এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৩ জন ভূমি মালিক জমি দান করেছেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কতৃক অনুমোদিত ৪ বছর মেয়াদী কোর্সে ডিপ্লোমা ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন-ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন-কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি চলমান রয়েছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট’র অধ্যক্ষ শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ১১ জন শিক্ষক ও ৮ জন স্টাফ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে খন্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। বুধবার পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ৯৮ জন। তিনটি শাখায় ৬০টি করে মোট ১৮০ আসন রয়েছে প্রতিষ্ঠানে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামনা শীষ রায় জানালেন, ১১জন শিক্ষক ও ৯১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা মহিলা কলেজের। শিক্ষকদের মধ্যে ২ জন খন্ডকালীন। কলেজের স্টাফ রয়েছেন ৬ জন। ‘সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মহিলা কলেজ’ এর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫০ করে ৩০০ আসন সংখ্যা নিয়ে গত ১২ জুলাই মঙ্গলবার থেকে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত দু’টি শাখায় ৯১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। আরো অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য যোগাযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামনাশীষ রায় লিটন।
দিরাই ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ অনুকূল চন্দ্র দেব বলেন, ভাটি বাংলায় একটি মহিলা কলেজ স্থাপন দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সেই দাবি পূরণ করে নারী শিক্ষাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়েছেন। পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগীয় শহর সিলেটে মাত্র একটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আমাদের মফস্বলের অনেক শিক্ষার্থীই সেখানে ভর্তির সুযোগ পায় না। মহিলা কলেজের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট স্থাপন করে সুরঞ্জিত সেন দিরাই-শাল্লা তথা সুনামগঞ্জের শিক্ষিত বেকারদের কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কারণ আজকের যুগই হচ্ছে টেকনিকেল যুগ।
পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া বললেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট’র জন্য পৌর এলাকার ৩৩ জন দাতা প্রায় ৩ একর ভূমি দান করেছেন। এ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্চতর নারী শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ভূমিদাতা ধনীর রায় বলেন, মহিলা কলেজ ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট দিরাই-শাল্লায় এই প্রথম। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এই অবদান তখনই সফল ও সার্থক হবে যখন সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠান দু’টি পরিচালিত হবে।
ভূমি দাতা ও দিরাই বাজার মহাজন সমিতির সাবেক সভাপতি সিরাজদৌলা তালুকদার বলেন, দিরাই শাল্লার সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অবদান রয়েছে। জীবনসায়াহ্নে এসে নিজের উদ্যোগে যে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন, এটা শিক্ষার প্রতি তার অনুরাগেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রতিষ্ঠান দুটি শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয় ও কমক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
- ছাত্রলীগের জেলা কমিটি- সংখ্যার ছলনা- ৮ সহ সভাপতি বিয়ে করেছেন, চাকুরি করছেন ৫ জন
- কলেজ জাতীয়করণে জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখুন


