সুরমায় দ্বিতীয় (ধাড়ারগাঁও-হালুয়ারঘাট) সেতু- জরিপ এবং মাটি পরীক্ষা শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি
শহরতলির সুরমা নদীর ধাড়ারগাঁও-হালুয়ারঘাটে সেতু নির্মাণের জরিপ এবং মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ১১ টা থেকে এলজিইডি’র সদর দপ্তর থেকে আসা ৪ সদস্যের সমীক্ষা দলকে নিয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির সার্ভেয়াররা কাজ শুরু করেছেন। ৫ দিন ব্যাপি চলবে এই কাজ। এই সেতু নির্মাণ হলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তরপাড়ের ৩ ইউনিয়ন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর, বাংলাবাজার ও সুরমা ইউনিয়নের প্রায় ৫ লাখ মানুষের যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ         
সীমান্তের ডলুরায় শুরু হওয়া শুল্কবন্দরের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগের সুবিধা হবে।
ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের। এই সেতু নির্মাণের দাবিতে সুরমার উত্তর পাড়ের ইউনিয়নে-ইউনিয়নে মানববন্ধন হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবায়নের জন্য সুনামগঞ্জ শহরতলির ধারারগাঁও’এর বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পহেলা মার্চ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী, ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব আব্দুল মালেককে অনুরোধপত্র প্রদান করেন। ড. মোহাম্মদ সাদিকের অনুরোধ পত্রে ৬ ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ৪৮ শহীদের শহীদ মিনারে যাতায়াত দুর্ভোগের মুক্তি, ডলুরায় হওয়া দুই দেশের সীমান্তহাটে যাতায়াত সুবিধা এবং ডলুরায় শুল্কবন্দর হবার যে কাজ শুরু হয়েছে, এই শুল্কবন্দরে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য এই সেতু জরুরি উল্লেখ করা হয়েছিল। রোববার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানের জরিপ এবং মাটি পরীক্ষাকরণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় লোকজন আনন্দে-উদ্বেলিত।
উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রব বলেন,‘আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হতে চলেছে, সুরমার উপর এই সেতু হলে উত্তর পাড়ের ৫ লাখ মানুষের যাতায়াত কেবল নয়, ভারতের সেভেন সিস্টারস’এর কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ এই পথেই হবে।’
সুরমার নদীর দক্ষিণ পাড়ের কোরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন,‘এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ড. মোহাম্মদ সাদিকের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, কয়েক লাখ মানুষের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে তাঁরা যেন আন্তরিক থাকেন।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘সুরমার উত্তরপাড়ে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ডলুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে আজ জরিপ ও মাটি পরীক্ষা করণের জন্য ৪ সদস্যের দল স্থানীয় সার্ভেয়ারসহ অন্যান্যদের নিয়ে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানে জরিপ ও মাটি পরীক্ষা করণের কাজ শুরু করেছেন। জরিপ কাজ শেষে ডিজাইনের কাজ হবে। পরে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি সুরমার দ্বিতীয় সেতু নামে পরিচিত হবে। এই সেতু নির্মাণ হলে উত্তরপাড়ের মানুষের যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি শুল্কবন্দর চালু হলে দেশব্যাপি পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই সেতু।’