আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমার উত্তরপাড়ের অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুরমা ইউনিয়নের ভৈষারপাড় এলাকায় সখিনা বিবি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র’র ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক নিয়োগ না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হচ্ছে না। এই কারণে সুরমার উত্তরপাড়ের লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এই মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র চালুর দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিগত ২০১৫ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শতাংশ জায়গার উপর সখিনা বিবি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এই ভবনের কাজ শেষ হওয়ার পরও চিকিৎসক নিয়োগ না থাকায় এখন পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না রোগীরা।
তবে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিশ্বজিত কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, সখিনা বিবি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য গত মাসে ১০টি পদ সৃজন করা হয়েছে। এসব পদে ২ জন মেডিকেল অফিসার, ২জন পরিদর্শক, ২জন আয়া ও পিয়ন রয়েছে। এসব পদে লোক নিয়োগ হলে সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হবে রোগীদের।
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে সখিনা বিবি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে ১ জন সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ও ২ জন আয়া দিয়ে নামে মাত্র চালু করা হয়েছে। ২টি সুরম্য ভবন বিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে রোগীর সিট রয়েছে ১০টি। এরমধ্যে চালু আছে ২টি। কেবিন নেই। পানির ব্যবস্থা আছে কিন্তু পাইপ লাইনে সমস্যা। পল্লীবিদ্যুৎ আছে কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ অকেজো। মেডিকেল অফিসার সহ অন্যান্য পদে লোক নেই।
সুরমা ইউনিয়নের ভৈষারপাড়, কৃষ্ণনগর, নলুয়া, বেরীগাঁও, বাঘবেড়, বেলাবরহাটী, বালিকান্দি, হালুয়ারগাঁও, রহমতপুর, সৈয়দপুর গ্রামসহ জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সখিনা বিবি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।
ভৈষারপাড় গ্রামের রোগী হাফেজা খাতুন (২৫) বলেন,‘আমাদের আশা ছিল স্বাস্থ্যসেবা পাবো ভৈষারপাড় এলাকার সখিনা বিবি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এটি চালু হচ্ছে না। এটা আমাদের মনের কষ্ট। রোগ হলে ছুটে যেতে হয় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। আমাদের ভোগান্তি কমাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
বাঘমারা গ্রামের রোগী মরিয়ম বেগম (৩২) বলেন,‘ভৈষারপাড়ের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালু হলে আমাদের এলাকার রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। রোগের চিকিৎসায় শহরে আসা-যাওয়ার ভোগান্তি কমে আসবে।’
ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন,‘আমাদের ভৈষারপাড় এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রায় ৫ বছর আগে যে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে, অদ্যাবধি আনষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়নি সেটি। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট পদে ১জনকে দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডাক্তার না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় চলে যায়। এই মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার দাবি আমাদের।’
সুনামগঞ্জ উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব বলেন,‘আমাদের এলাকার অহংকার ভৈষারপাড় এলাকার সখিনা বিবি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘদিন পরেও এটি চালু হচ্ছে না। এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালু হলে সুরমার উত্তরপাড়ের অবহেলিত জনপদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে। তাই কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে এটিকে কার্যকর করা দরকার।’
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মতিউর রহমান বলেন,‘সখিনা বিবি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র’র নির্মাণ কাজ শেষ হলেও চিকিৎসকের অভাবে চালু করছে না কর্র্তৃপক্ষ। এটা বড়ই দু:খজনক। আমি এই এলাকার লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনেক চেষ্টা করে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেছি। এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালু হলে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় শহরে আসা-যাওয়ার ভোগান্তি কমে আসতো। এই মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ২০ সিট বিশিষ্ট করার চেষ্টা করে আসছি। তখন রোগীদের থাকার কোনো সমস্যা হবে না।’
সুনামগঞ্জের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন,‘ভৈষারপাড় এলাকায় সখিনা বিবি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’র জন্য ১০টি পদ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারীভাবে নিয়োগ দেয়া হলে খুব দ্রুত সকল সমস্যার সমাধান হবে। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে ১জন সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট দেওয়া হয়েছে।’


