সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজ চলছে ধীর গতিতে, হস্তান্তরের নির্ধারিত সময় পার

বিশেষ প্রতিনিধি
করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা দেখা দিলেও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজ চলছে মন্থর গতিতে। নির্মিতব্য প্লান্ট ৩০ জুনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে সমঝে দেবার কথা থাকলেও আগামী ৩ মাসেও এর কাজ শেষ হবে কি-না, এই নিয়ে সংশয় রয়েছে। মাঝখানে পিলারের কাজের মান ভালো না হওয়ায় ইউনিসেফের দেখভালকারী কর্মকর্তারা পিলার ভেঙে আবার কাজ করিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের পেছনে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ৪ মাস আগে। নির্মাণ কাজ করছে রাজধানী ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টার ন্যাশনাল। নির্মাণ শেষে ৩০ জুন প্লান্ট সমঝে দেবার কথা ছিল হাসপাতালের তত্বাবধায়ককে। এই প্লান্ট থেকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ভবনের সকল কেবিন, করোনা ইউনিটের ওয়ার্ড ও কক্ষে, করোনা ইউনিটের আইসিইউ কক্ষসহ প্রায় ৩০০ পয়েন্টে অক্সিজেন সরবরাহ করার কথা। ইতিমধ্যে ১৬৮ টি অক্সিজেন সাপ্লাই পয়েন্ট করার কাজও শেষ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু লিকুইড প্লান্টের ট্যাংকি ও ম্যানুপুলেট ভবনের কাজ যথা সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের একাধিক স্টাফ এবং আশপাশের বাসিন্দারা জানান, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট ভবনের কাজ করার সময় পিলারের নিম্নমানের কাজ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপত্তি তুলেন। পরে ইউনিসেফের দেখভালকারী প্রকৌশলী এসেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীকে জানান, এ ধরণের কাজ গ্রহণ করা যাবে না, ভেঙে আবার পিলার না করলে তারা এই ভবন গ্রহণ করবেন না। শেষে পিলার ভেঙে আবার পিলার করা হয়।
সদর হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের নির্মাণাধীন ভবনে সোমবার দুপুর ১২ টায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকজন মিস্ত্রি ওখানে টুকটাক কাজ করছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত মিস্ত্রি নিরণ দাস বললেন, ৪ মাস আগে কাজ শুরু হলেও, এরমধ্যে লকডাউন হয়েছে কয়েকবার। ইউনিসেফের দেখভালকারীগণ আসতে পারেন নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দেখভালকারী প্রকৌশলী কাজ দেখছেন। কাজের মান ভাল হয়েছে। পিলারের ঢালাই করার সময় পুরাতন সার্টার ব্যবহার করায় হাতুরির আঘাতে বাকা এবং গর্ত হয়ে গিয়েছিল। ইউনিসেফের প্রকৌশলীরা কাজ দেখে বললেন, এধরণের কাজ মেনে নেওয়া যাবে না। এগুলো ভাঙতে হবে। ভেঙে আবার নতুন করে করতে হবে। ভেঙে নতুনভাবে করতে সময় লেগেছে, কাজ পিছিয়েছে। এছাড়া লকডাউনের সময় ইউনিসেফের প্রকৌশলীরা আসতে পারেন নি। এজন্য মাস দেড়েক কাজ বন্ধ ছিল। এখন তারা (ইউনিসেফের প্রকৌশলীরা) সামনে থেকে ঢালাইয়ের কাজ করাচ্ছেন। ছাদ ঢালাই হবে, এরপর এক মাস সাটারিং না খোলার জন্য বলা হয়েছে। সাটারিং খোলার পর আবার কাজ হবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টার ন্যাশনালের প্রকৌশলী সাকিল আহমদ বললেন, লকডাউনসহ নানা সমস্যায় ৫২ দিন কাজ বন্ধ ছিল। ভবনের পিলার ড্রয়িং মোতাবেক না হওয়ায় ভেঙে নতুন করে করানো হয়েছে। জুনের মধ্যে কাজ সমঝে দেওয়া যাবে না। সেপ্টেম্বর নাগাদ আশা করছি কাজ শেষ হয়ে যাবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’এর সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বললেন, জেলা সদরের একমাত্র হাসপাতালে এই ক্রান্তিকালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা থাকা জরুরি। আইসিইউ থাকাও অত্যাবশ্যক। অক্সিজেন প্লান্টের কাজ বিলম্বিত হওয়ায় এসব সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার মানুষ।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আনিছুর রহমান বললেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের অভ্যন্তরীণ অনেক কাজ ইউনিসেফের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে শেষ করেছেন। করোনা ওয়ার্ড, করোনা ইউনিটের ৩ টি কেবিনসহ ১৬৮ টি পয়েন্টে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টার ন্যাশনালের নির্মিত ভবনের পিলারগুলো ভালো না হওয়ায় ভেঙে করানো হয়েছে। অক্সিজেন প্লান্টের পুরো কাজই জুনের মধ্যে সমঝে দেবার কথা ছিল। সেটি হয় নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ রয়েছে দ্রুত কাজ আদায় করে সমঝে নেবার জন্য। আশা করছি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শেষ করে সমঝে দেবেন।