স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস লিমিটেড (বিটিসিএল) এর সুনামগঞ্জ অফিসের টেলিফোন গ্রাহক সংখ্যার সঠিক কোন তথ্য নেই। গুরুত্বপূর্ন এই প্রতিষ্ঠানের আগের গ্রাহক সংখ্যা ও বর্তমান গ্রাহক সংখ্যার কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি অফিসের দায়িত্বশীল কেউ।
বিটিসিএল এর সুনামগঞ্জ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর মন্তব্য, সম্ভবত আগে গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুন ছিল। সারা দেশেই গ্রাহক কমেছে। মোবাইল ফোন সহজলভ্য তাই সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চায়।
গ্রাহকদের অভিযোগ সেবায় হয়রানী ও ত্রুটি থাকায় অনেকেই টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন। বর্তমানে যাদের টেলিফোন সংযোগ রয়েছে তারাও সঠিক সেবা পান না। তাই দিনে দিনে এর গ্রাহক সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ বিটিসিএল-এর ৬৩২৮১ নাম্বারে কল করে গ্রাহক সংখ্যার তথ্য জানতে চাইলে বলা হয়, বর্তমান গ্রাহক ৮০০ জন। আগের গ্রাহক কত জন ছিল তার কোন হিসাব বলতে পারেননি ফোন রিসিসভকারী অফিস সহকারি লুৎফুরনাহার রেখা। তিনি বলেন,‘আপনি আমাদের স্যারের সাথে কথা বলেন তিনি বলতে পারেন। এছাড়া আমাদের অফিসের নুরুজ্জামান সাহেবের সাথে কথা বলেন; তিনিও জানতে পারেন।’
এরপর ওই ফোনেই টেলিকম বিভাগের অফিস সহকারি নুরুজ্জামান জানান, আমাদের কাছে আগের গ্রাহক সংখ্যার সঠিক তথ্য নেই। আপনি স্যারের (দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর) সাথে কথা বলেন। ’
তবে নুরুজ্জামান জানান, তাঁর কাছে ১৭৬ জন ইন্টারনেট গ্রাহকের তথ্য রয়েছে। তিনি এই শাখার গ্রাহকের সকল তথ্য জানেন। ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মাত্র ৬ মাস আগে গত ৪ জুন সুনামগঞ্জ বিটিসিএল এর তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী নাসফুল হুদা প্রিন্স জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ তার ও টেলিগ্রাফ বোর্ড বিটিটিবি থাকাকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ শহরে টেলিফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২ হাজারের উপরে। জুন মাসে গ্রাহক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল সাড়ে ৮’শ এ।
এনিয়ে ৫ জুন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘ সুনামগঞ্জে বিটিসিএল-এর ইন্টারনেট ভোগান্তি ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল, কাঙ্খিত গ্রাহক সেবা না থাকায় ও বেসরকারি ফোন কোম্পানীগুলোর সুযোগ সুবিধার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে গ্রাহক হারাচ্ছে বিটিসিএল। অনেক গ্রাহক বিটিসিএল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। জুন মাসে টেলিফোন ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ৮৫০ জন। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫০ জন। মাসে ১০-১৫ জনের বেশী গ্রাহক বৃদ্ধি হচ্ছে না বিটিসিএল-এর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।
ষোলঘরের বাসিন্দা উন্নয়নকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন,‘মোবাইল ফোনের সাথে প্রতিযোগিতায় টেলিফোন সেবার মান কাঙ্খিত না হওয়ায় আমাদের বাসার সংযোগ আমরা বিচ্ছিন্ন করেছি। এই প্রতিষ্ঠান সাধারণ গ্রাহকদের কাঙ্খিত সেবা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ’
দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথার সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘সেবা সন্তুষজনক না হওয়ায় আমি আগের টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করেছি। কারণ লাইন নষ্ট হলেও ঠিক করার জন্য অফিসে গিয়েও কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাউকে পাওয়া যায় না। বর্তমানে আমার ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে; তবে এর সেবাও সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন,‘ টেলিফোন অফিসের সেবার মান খুবই খারাপ। এই অফিসে গিয়ে কারো কাছ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন ও বকেয়া বিল প্রদান করতে গিয়েও কারো কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। একজনের কাছে গেলে অন্যজনের কাছে যাওয়ার জন্য বলেন। এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণেই প্রতিষ্ঠানের এই দশা হয়েছে। বাধ্য হয়ে আমি আমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি।’
সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্যসচিব মালেক হুসেন পীর বলেন,‘এক সময়ের সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের সেবার মান কি ছিল তা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। সেবার চেয়ে বিল বেশী দেয়ায় ডিজিটাল হওয়ার আগেই শত শত গ্রাহক টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।’
লেখক আইনজীবী আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন,‘ টেলিফোন বিভাগের সেবার মান সন্তুষজনক নয়। আমাকে না জানিয়েই আমার নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। টেলিফোন নাম্বার নিয়ে তাদের কোন ডাইরেক্টরিও নেই। নাম্বর পরিবর্তন করার ফলে আমাকে কেউ খোঁজে পায় না; আমি কাউকে পাই না। ব্যবহার না হওয়ায় দরখাস্ত করে লাইন বিচ্ছিন্ন করেছি। এরপরও একমাসের বিল এসেছিল। তবে অফিস বলেছিল যেহেতু আগেই লাইন বিচ্ছন্ন করা হয়েছে এই বিল দিতে হবে না।’
সোমবার দুপুরে বিটিসিএল সুনামগঞ্জ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মৃনাল কান্তি দাসকে ফোন করলে সিলেটে আছেন জানিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে তিনি বলেন,‘ বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ৮০০ জন। আমার ধারণা আগের গ্রাহক দ্বিগুন ছিল। তবে সঠিক হিসাবটি আমার জানা নেই। কারণ আগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বদলী হয়ে চলে গেছেন। যারা অফিসে আছেন তারাও সঠিকভাবে বলতে পারবেন না।’
প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অফিসে সংরক্ষণ ও থাকার বিষয়টি অফিসের লোকজন কেন বলতে পারবেন না? জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। সংবাদে তাঁর নিজের নাম না লিখার অনুরোধ করেন তিনি।


