সুনামগঞ্জ পৌরসভার আকার, আয়তন ও জনসংখ্যা বাড়ায় সেবাদান সক্ষমতা উন্নত করতে বর্তমান ৯টি ওয়ার্ডের স্থলে ১৫টি ওয়ার্ড করার একটি প্রস্তাব নির্বাচিত কাউন্সিলররা পৌরপরিষদের সভায় উত্থাপন করেছেন। পৌরপরিষদ এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। পৌরমেয়র জানিয়েছেন, তাঁরা প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ৈ দিবেন। মেয়র নিজেও এই প্রস্তাবের সমর্থনে মতামত ব্যক্ত করে বলেছেন যে, ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হলে বর্ধিত জনসংখ্যার সেবা চাহিদার চাপ সামলানো অনেকটা সহজ হবে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান আয়তন ২২.১৭ বর্গ কিলোমিটার ও জনসংখ্যা আড়াই লাখ। পৌরশহরে অর্ধেকের বেশি নন-ভোটার নাগরিক, যারা পেশা, চাকুরি ও অন্যান্য প্রয়োজনে শহরে বসবাস করে থাকেন। ভোটার না হলেও এই বিপুল পরিমাণ নাগরিক পৌরসুবিধা ভোগ করে থাকেন। সুতরাং কেবল ভোটারের সংখ্যা হিসাব করে পৌরসভার কার্যপরিধি বিবেচনা করলে চলবে না। একসময় পৌরসভার আয়তন ছোট ছিলো। পুরনো শহরাঞ্চল নিয়ে ছিলো পৌরসভার কার্যক্রম। তখন ওয়ার্ড সংখ্যা ছিলো তিনটি। তখন প্রতি ওয়ার্ডে তিনজন করে মেম্বার বা কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারতেন। অর্থাৎ ওয়ার্ড সংখ্যা তিন হলেও এই তিন ওয়ার্ডের মেম্বার বা কাউন্সিলর ছিলেন নয় জন। পরে পৌরসভার আয়তন বেড়েছে। বেশ কিছু এলাকা ঢুকেছে পৌরসভার ভিতরে। সাবেক তিনটি ওয়ার্ডকে ভেঙে ৯টি ওয়ার্ড করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রাখায় আগের মতো কাউন্সিলর সংখ্যা নয় জনেই সীমাবদ্ধ থাকে। সময়ের পরিবর্তনে ও মানুষ বাড়ায় এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অপ্রতুলতার বিষয়টি বেশ বুঝা যাচ্ছে। পৌরসভার কোনো কোনো ওয়ার্ড এত দীর্ঘ যে একজন কাউন্সিলর ওয়ার্ডভুক্ত সকল নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সবিশেষ নজর রাখতে হিমশিম খান। একাধিক পাড়া বা মহল্লা একটি ওয়ার্ডভুক্ত থাকায় এবং এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ার দূরত্ব বেশি থাকায় সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকরাও তাৎক্ষণিক নিজেদের কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ করতে প্রায়শই ব্যর্থ হন। এরকম অবস্থায় পৌরসভার ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রস্তাবটি প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় বলে আমরা মনে করি।
সবচাইতে প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই, প্রস্তাবটি এনেছেন নির্বাচিত কাউন্সিলররাই। তাঁরা নিজেদের কার্যএলাকা কমে যাওয়ার চিন্তা না করে ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। এতে বুঝা যায় কাজ করতে যেয়ে তাঁরা প্রতিদিন যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন তার আলোকেই এই প্রস্তাবটি এনেছেন। একজন কাউন্সিলর গণমাধ্যমকে বলেছেন, জন্মনিবন্ধন সনদের চাপ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এই সনদ ইস্যু করতে তিনি রীতিমত হিমশিম খেয়েছেন। সময়মতো সকলকে এই সনদ দিতে পারেননি তিনি। আরেকজন বলেছেন, তাঁর ওয়ার্ডের সকল এলাকার নাগরিকদের সাথে একদিনে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। আরেকজন বলেছেন, সাহায্য-সহায়তা বরাদ্দের অপ্রতুলতার কথা। তিনি একটি ওয়ার্ডে যে পরিমাণ ভিজিডি কার্ড পান তা এলাকার যোগ্য উপকারভোগীর তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
সবচাইতে বড় কথা হলো, নাগরিকরা তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হাতের কাছে সহজেই পেতে চান। বিশেষ করে কাউন্সিলর পদধারী জনপ্রতিধিরা এলাকাবাসীর সুখ-দুঃখের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকেন। যেকোনো ছোট সমস্যার জন্যও তাঁরা প্রথমেই কাউন্সিলরের কাছে ছুটে যান। এ অবস্থায় যদি তিনি কাউন্সিলরকে তাৎক্ষণিক কাছে না পান তাহলে বিশেষভাবে বিব্রত হয়ে উঠেন। নাগরিক সমাজের সাথে জনপ্রতিনিধির এই আত্মিক বন্ধনকে আরও জোরদার করা উচিৎ। আর এ কারণেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর যৌক্তিক প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। দেশের বহু পৌরসভায় এখন নয় এর অধিক ওয়ার্ড রয়েছে। ওয়ার্ড বিভক্তির প্রধান বিবেচনা হলো ভোটার ও নাগরিক সংখ্যা। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক নাগরিক গোষ্ঠীর জন্য সুসমভাবে ওয়ার্ডগুলো বিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন। সতরাং সুনামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যানুপাতে এলাকা বিভক্ত করে ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রস্তাবটি বিবেচনা করার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
- সেবার প্রসারে ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব/ একমত পৌর পরিষদ
- অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে কৃষি, শিল্প ও রেমিট্যান্স- পরিকল্পনামন্ত্রী


