আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সংসারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে মা, বাবা আর ভাই বোনের মুখে হাসি ফুটাতে চোখে স্বপ্ন নিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান ফারজানা নামে এক কিশোরী। কিন্ত সে জানতো না সেই স্বপ্ন তার জীবনে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে। শনিবার এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত শুক্রবার বিকেলে জগন্নাথপুর থানায় মেয়ের মা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা জগলু মিয়ার কিশোরী মেয়ে ফারহানা বেগম (১৫) কে একই এলাকার তারিফ উল্লার ছেলে স্থানীয় দালাল লিলু মিয়ার মাধ্যমে চলতি বছরের ১০ মার্চ সৌদি পাঠায়। সেখানে সৌদির রিয়াদ এরিয়ার সেমি এলাকায় কিশোরীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে খারাপ কাজসহ অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ১৫ দিন আগে সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার মেয়েটি মোবাইল ফোনে তার মাকে জানায়, সে খুবই বিপদে আছে, তাকে কোন ধরনের বেতন ভাতা দেওয়া হয় না। তাকে যেন দালালের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, বলে মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। এসময় তার ফোনের লাইন কেটে যায়। এঘটনার পর মেয়ের মা গত ২ ডিসেম্বর দালাল লিলু মিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে আমার মেয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বলি। তখন দালাল লিলু মিয়া উত্তেজিত হয়ে মেয়ের মাকে বলে, তোমার মেয়েকে বিদেশ পাঠাতে আমার ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এই টাকা আমাকে না দিলে মেয়েকে আর তুমি পাবে না। বিদেশে তাকে আরো বেশি নির্যাতন করা হবে। অবশেষে নিরূপায় মেয়ের মা জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মেয়ে মা রাজিয়া বলেন, স্থানীয় দালালের ফাঁদে পড়ে আমার মেয়ে সৌদিতে যায়। আমার মেয়ে একদিন মুঠোফোনে আমাকে কল দিয়ে বলে, তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য, বলেই সে কাঁদতে কাঁদতে ফোন কেটে দেয়। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের জীবন এখন বিপন্ন। মেয়ের চিন্তায় চোখে ঘুম নেই। আমার মেয়েকে ফিরে পেতে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য চাই।
অভিযুক্ত লিলু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাস বলেন, অভিযোগের আলোতে আমরা তদন্ত করব।


