সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না (৩৫) হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় পৌর পয়েন্টে ‘ফেয়ার ফেইস জগন্নাথপুর’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেন নিহতের স্বামী সৌদিপ্রবাসী ছুরুক মিয়া, ছেলে সাইদ আহমদ ও নিহতের স্বজন, জনপ্রতিনিধিসহ জগন্নাপুরের বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দ।
‘ফেয়ার ফেইস জগন্নাথপুর’ এর সভাপতি সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম, কাউন্সিলর কামাল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ছালিক আহমদ, পৌর যুবলীগ নেতা আকমল হোসেন, ফেয়ার ফেইজের এম শামিম আহমদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আলোচিত জ্যোৎস্না হত্যাকাণ্ড জগন্নাথপুরবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানানো হয় এসময়।
নিহতের স্বামী সৌদিপ্রবাসী ছরুক মিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডে সংবাদ পেয়ে আমি বাকরুদ্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। তখন আমি সৌদিতে ছিলাম। সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে প্রবাস থেকে ছুটে এসেছি। আমার সাজানো সংসার ঘাতকের ছোবলে তছনছ হয়ে গেছে। আমি আমার স্ত্রী হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক লিটন দেওয়ান জানান, মামলার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঔষধ কেনার কথা বলে পৌরশহরের নিজবাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫)। ১৭ ফেব্রুয়ারি শহরের আব্দুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ফার্মেসির তালাবদ্ধ দোকান থেকে তার ছয় টুকরা মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। এঘটনায় পুলিশের তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার প্রধানসহ তিনজন গ্রেপ্তার করে। দুইদফা রিমান্ড শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয় আসামিদের। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানিয়েছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে জ্যোৎস্নাকে গণধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানিয়ে দেওয়ার কথা বলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার পর দোকানে থাকা ফলের ছুরি দিয়ে ছয় টুকরা করে লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এদিকে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে প্রধান আসামী জিতেশ চন্দ্র গোপ (৩০) জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।