স্টাফ রিপোর্টার
স্কুলছাত্র অনিক চন্দ্র ব্রহ্মের খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কিশোর অপরাধী রবিন মিয়াকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে পুলিশ তাকে আটক করে। রবিন শহরের উত্তর আরপিননগরের মহিবুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ছিনতাইসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক ব্রহ্মের সঙ্গে বছর দেড়েক আগেই সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল রবিনের। রবিন সার্বক্ষণিক নেশাগ্রস্ত থাকতো। চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কাজে যুক্ত থাকা এই কিশোর মারপিঠ এবং অপরহরণ কাজে ভাড়ায়ও কাটার অভিযোগ আছে।
গত এক বছরে সে সুনামগঞ্জ সদরের তহশিলদার কাজী শামছুল হুদা সোহেলকে কাজিরপয়েন্টে মাথায় আঘাত করা, জামালগঞ্জের একটি ছেলেকে অপহরণ, শহরের বাঁধনপাড়ার একটি বাসায় এক তরুণিকে দিয়ে এক তরুণের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের ঘটনায় ভাড়ায় কাটার অভিযোগ আছে। চুরি ছিনতাইসহ একাধিক মামলার আসামি কিশোর এই অপরাধী।
শিক্ষার্থী অনিক ব্রহ্মের সঙ্গেও বছর দেড়েক আগে সখ্যতা গড়ে তোলে রবিন ও তার সাথের নেশাগ্রস্ত ৩ কিশোর। এরা একবার রবিনের বাবার কাছ থেকে কিছু টাকাও নানা কৌশলে আদায় করে।
অনিকের বাবা প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম জানান, পূর্ব নতুনপাড়ার বাসায় ভাড়া থাকার সময় প্রতিবেশি আরেক কিশোরের বাসা আমার ছেলে অনিক রবিনদের দেখিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিবেশি ছেলেটির পরিবারের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা হয়েছিল। এক পর্যায়ে আরেকজনের মধ্যস্ততায় এই ঝামেলা শেষ হয়। রবিনকে ওই সময় আমি এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অনিকের খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। রবিনের সঙ্গে অনিকের সখ্যতা ছিল, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে।
গত রবিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে অনিকের গলায় রশি প্যাঁচানো রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অনিক সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভগের ছাত্র এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। অনিকের বাবা কয়লা ব্যবসায়ী প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য পৌর শহরের পশ্চিম নতুনপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি জেলার তাহিরপুর উপজেলার তেলিগাঁও গ্রামে।


