ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বিলের ব্যবসার নামে স্বামী প্রতি বছরই ঋণ করে। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য নিজের স্ত্রীকে চাপ দেয়। মায়ের ওপর চাপ থাকায় বড় মেয়ে প্রতিবারই ঋণের টাকা পরিশোধ করে। এবারও স্বামী ৮৫ হাজার টাকা ঋণ করে। আবারও ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য স্ত্রীকে চাপ দেয়। কিন্তু এবার মেয়ে সেই টাকা পরিশোধ না করাই কাল হলো স্ত্রী স্বাধীনা বেগমের। বুধবার দুপুরে স্বাধীনা বেগমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছে পাষ- স্বামী বাচ্চু মিয়া। ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের টানমেউহারি গ্রামে তাঁর (বাচ্চু) বড় মেয়ে রিপা আক্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বাচ্চু মিয়ার পাঁচ মেয়ে এক ছেলে। পেশায় কিছুই না করা বাচ্চু মিয়ার নিজের কোনো জায়গা জমি না থাকায় বড় মেয়ে রিপার বাড়িতেই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর সাথে কলহ চলে আসছে। এ নিয়ে স্ত্রীকে অত্যাচারও করেছে বাচ্চু মিয়া। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বড় মেয়ে রিপা তার ছোট ভাইকে নিয়ে উপজেলা সদরে যায়। এ সময় রিপার এক ভাগ্নে তাদের ঘরে ছিল। ভাগ্নেকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাচ্চু মিয়া স্ত্রীর সাথে কলহে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি রিপার ভাগ্নে ফোন করে জানালে রিপা দ্রুত বাড়ি যায় এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখে আতঙ্কিত হয়। পরে ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেয় রিপা। ধর্মপাশা থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসানের উপস্থিতিতে ঘরের দরজা ও ঘরের টিনের চালা খুলে বাচ্চু মিয়ার ঝুলন্ত এবং স্বাধীনা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে, স্বাধীনা আক্তারকে হত্যার পর বাচ্চু মিয়া ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
রিপা আক্তার জানায়, ঋণের ৮৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার জন্য তার বাবা তাদের চাপ দিয়ে আসছিল। টাকা পরিশোধ না করায় তার বাবা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে স্ত্রীকে হত্যার পর বাচ্চু আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
- শিক্ষকের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ
- ‘সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে’


