স্ত্রীর দাবি স্বামীকে অপহরণ, স্বামী বলছে আত্মগোপন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুরমা আক্তার নামের এক গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করেন তার স্বামীকে অপরহণ করা হয়েছে। আর এ অভিযোগের তীর ছোড়া হয় স্থানীয় ইউপির সাবেক এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সুরমার পরিবারের পক্ষ থেকে একই দিনে আয়োজন করা হয় মানববন্ধনের। সেখানও অপরহণের প্রতিবাদ জানানো হয়। থানার ওসি গৃহবধূকে তার স্বামীর সাথে মুঠোফোনে কথাও বলিয়ে দেন। কিন্তু গৃহবধূ একই দাবি জানাচ্ছিলেন বারবার। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গৃহবধূর স্বামী নবী হোসেন নিজেই থানায় হাজির হয় এবং স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করে। ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মাহমুদনগর গ্রামের বাসিন্দা নবী হোসেন গত রবিবার রাত দুইটা থেকে নিখোঁজ ছিল বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তার স্ত্রী।
নবী হোসেন পার্শ্ববতী মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে এবং সেখানেই বসবাস করে। একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাদিম কবির কৌশলে তার নেতৃত্বাধীন ‘মাহমুদনগর স্বপ্নের তরী মৎস্যজীবী সমবায় সমবায় সমিতি লিঃ’ এর সভাপতি করেন নবী হোসেনকে। যা নবী হোসেনের কাছে অজানা। সম্প্রতি নাদিম কবিরের সমিতির বিরুদ্ধে মাহমুদনগর গ্রামের ‘আলোর দিশারী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ’ এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়। এ অভিযোগ তদন্তে গত মঙ্গলবার জেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা তদন্তে আসেন। তদন্তের সময় সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য নাদিম কবির নবী হোসেনকে জানায়। কিন্তু নবী হোসেন এ ব্যাপারে জানেনা বলে তদন্তে উপস্থিত থাকতে আপত্তি জানায়। এতে নাদিম কবির নবী হোসেনের ক্ষতি করবে বলে ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি দেয়। ফলে স্বেচ্ছায় নবী হোসেন আত্মগোপনে যায়। কিন্তু নবী হোসেনের স্ত্রী সুরমা আক্তার বুধবার বিকেলে ধর্মপাশা থানায় ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে অপহণের অভিযোগ করেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে অপহরণের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেন। এদিকে নবী হোসেন দাবি করেছেন নাদিম কবির তার স্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও মানববন্ধন করিয়েছে।
নবী হোসেন বলেন, ‘মোকাররম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। নাদিমের ভয়ে আমি পালিয়েছিলাম। সমিতির মিটিংয়ে না থাকলে নাদিম আমাকে মারধর করবে বলে হুমকি দেয়। আমার স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে। আমি দশ বছর ধরে মোহনগঞ্জ রিকশা চালাই। বৈশাখ মাসে বাড়িতে যাই। কয়েকদিন থাকি। ধানটান নিয়ে আবার মোহনগঞ্জ চলে যাই। আমার স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার একদিন আমার আইডি কার্ড নেয়। ভাবছিলাম সরকারি সাহায্য দিবো। এখন শুনছি মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি দেওয়া হইছে।’
নাদিম কবির তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘সমবায়ের নিয়ম মেনেই সমিতি করা হয়েছে। সমিতির একাধিক রেজুলেশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে নবী হোসেনের একাধিক স্বাক্ষর রয়েছে। এছাড়াও তাকে যে জোর করে রাখা হয়নি তার উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে।’
মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ইমেজের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলতে ও হেয় প্রতিপন্ন করতে নাদিম কবির এমনটি করেছে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘নবী হোসেন সুনামগঞ্জ ছিল। আমরা মোবাইলে নবী হোসেনের সাথে তার স্ত্রীর কথা বলিয়ে দিয়েছি। তার স্ত্রী অতি উৎসাহী হয়ে এমনটি করেছে।’