ধর্মপাশা প্রতিনিধি
তিনি পেশায় একজন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব। কিন্তু তিনি এই পেশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্ত্রীর ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত। তাই তিনি ইউনিয়ন পরিষদে সময় না দিয়ে বেশির ভাগ সময় ঠিকাদারি কাজেই ব্যয় করেন। তাঁর কর্মস্থল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হলেও তিনি উপজেলা সদরে থেকেই দাপ্তরিক কাজ করেন। ফলে সাধারণ জনগণকে সেবা নিতে তাঁর কাছে উপজেলা সদরে আসতে জীবনের ঝঁকি নিয়ে দুর্গম হাওর পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রুহুল আমিন নামের ওই ইউপি সচিবের এমন কর্মকা-ে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বুধবার রুহুল আমিন ময়মনসিংহে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। কিন্তু রুহুল আমিন সেই তথ্য গোপন করে কর্মস্থলে রয়েছেন বলে দাবি করেন।
রুহুল আমিনের বাড়ি মধ্যনগর উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের সাড়ারকোনা গ্রামে। তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহে বসবাস করেন। ধর্মপাশা কলেজ রোডেও তাঁর বাসা থাকলেও ময়মনসিংহে থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। তিনি তাঁর স্ত্রী নাদিরা বেগমের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বুশরা এন্টারপ্রাইজের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার জন্য প্রায়ই ময়মনসিংহ থেকে এসে উপজেলা সদরে অবস্থান করেন। কিন্তু তাঁর কর্মস্থলের দিকে উঁকিও দেন না। ফলে ইউপি চেয়ারম্যনসহ ইউনিয়নবাসীর প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর নিতে উপজেলা সদরে লোক মারফত তাঁর কাছে পাঠাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদেরকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর নিতে হয়। সাম্প্রতিকালের বন্যার সময়েও তিনি তাঁর কর্মস্থলে যান নি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
ইউপি সচিব রুহুল আমিন বলেন, ‘বন্যার কারণে মাঝে মধ্যে অফিসে যাই। গিয়ে ত্রাণ বিতরণের সময় থাকি। অফিসে কম যাই এবং ঠিকাদারি নিয়ে ব্যস্ত থাকি- এমনটি সত্য নয়।’
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা দিপা বলেন, ‘তিনি (রুহুল) নিয়মিত অফিস করেন না। কিছুদিন ধরে তাঁঁর অনুপস্থিতির হার বেশি। শুনেছি আগে নাকি অফিসই করতো না, স্বাক্ষরও অন্যজন দিতো। এখন তা করতে দেই না। তবে কেউ যদি এখন আমার আড়ালে এমনটি (স্বাক্ষর) করে সেটি বলতে পারবো না। তিনি (সচিব) ধর্মপাশা থাকেন। জরুরি কাগজ ধর্মপাশা পাঠিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হয়। তার জন্য আমার ইউনিয়নের জনগণ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’


