স্বতন্ত্র বিদ্রোহীদের কারণে চাপে আ.লীগ প্রার্থীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও বিশ^ম্ভরপুর (চতুর্থধাপে) উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ১০ টিতেই স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীদের কারণে চাপে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা। এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও দুই উপজেলার ৯ ইউনিয়নেই স্বতন্ত্রের মোড়কে আছে বিএনপির প্রার্থী। বিশ^ম্ভরপুরের ৩ ইউনিয়নে জাপার একক প্রার্থী লড়ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে। এই অবস্থায় ¯œায়ু চাপে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দায়িত্বশীলরা।
জগন্নাথপুরের ৭ ইউনিয়নের ৬ টিতেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে নেমেছেন দলের একাধিক নেতা। এরমধ্যে পাটলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীতসহ আওয়ামী লীগের তিন নেতা মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন, উপজেলার আশারকান্দিতে একইভাবে ৩, রানীগঞ্জে ৩, পাইলগাঁওয়ে ৩, চিলাউড়া হলদিপুরে ৫ এবং সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীতসহ ৪ জন নেমেছেন ভোট যুদ্ধে।
অন্যদিকে, বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নে ২, চিলাউড়া হলদিপুরে ১, রানীগঞ্জে ১, আশারকান্দিতে ২ এবং পাইলগাঁও ইউনিয়নে ১ বিএনপি নেতা নির্বাচনে লড়ছেন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৪ ইউনিয়নে দলীয় মনোনীতসহ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। সলুকাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীসহ ২, পলাশ ইউনিয়নে একইভাবে ৩, ধনপুরে ৩, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নে দলীয় মনোনীতসহ ২ আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ ৪ বিএনপি নেতা ৪ ইউনিয়নে এবং জাতীয়পার্টির বর্তমান একজন চেয়ারম্যানসহ দলের ৩ নেতা ৩ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ বললেন, বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, বিএনপি নেতাদের ভোট দিলে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার হবে, এছাড়া আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খলা আছে, দল একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, প্রার্থী হয়েছে আরও অনেকে, এজন্য নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের সুবিধা হয়েছে।
এই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমদ মনে করেন, দলীয় মনোনয়ন ত্যাগীদেরই দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে দলের মনোনীতরা বিপাকে স্বীকার করে তিনি বললেন, তাদের নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা চলছে।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি জগন্নাথপুরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সোহেল আহমদ বললেন, বিএনপি নির্বাচনে যায় নি, নির্বাচন করছেন প্রার্থীরা নিজ দায়িত্বে, তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবি হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন বললেন, উপজেলার কলকলিয়া ও চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ইউনিয়নগুলোয় তৃণমূলের দেওয়া তালিকার প্রথমে যারা ছিলেন, তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য দলের প্রার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে আছেন স্বীকার করে তিনি বললেন, মঙ্গলবার থেকে দলীয়ভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে, আশা করছি দলের প্রার্থীদের জয় হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, যোগ্যরা মনোনয়ন পায় নি, অযোগ্য অজনপ্রিয়রা মনোনয়ন পেয়েছে, জগন্নাথপুরে কোটি কোটি টাকা মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে, দলের বর্তমান জনপ্রিয় চেয়ারম্যানরা মনোনয়ন পায় নি, কোন কোন ইউনিয়নে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরোধীতাকারী মনোনয়ন পাওয়ায় দলীয় কর্মী ও দলের শুভানুধ্যায়ীরা অসন্তুষ্ট।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, জগন্নাথপুর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল সোমবার (৬ ডিসেম্বর)। প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যারা দলের পদপদবিতে আছেন, দলের নির্দেশ মাননে নি, তাদেরকে বহিস্কার করা হবে, প্রার্থীদের নাম এসেছে তৃণমূল থেকে, আমরা সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে তালিকা পাঠিয়েছি, মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে, অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
জগন্নাথপুর ও বিশ^ম্ভরপুরে প্রতীক পেয়ে মঙ্গলবার থেকে প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর ভোট।