সজীব দে
দৃষ্টিহীন এবং বাকপ্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থীর নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার প্রচেষ্টা, এইচএসসি পরীক্ষায় দুর্গম শাল্লা ডিগ্রি কলেজের সাফল্য, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, গণিতে গোল্ড মেডেল প্রাপ্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অসামান্য পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। অদম্য মেধাবীদের পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি হলেও ইচ্ছাশক্তির কাছে সেই সব চূর্ণ হয়েছে। স্বপ্নপূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ শিক্ষাসংগ্রামীদের মনোবল অটুট রাখতে পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই।
বছরের প্রথম দিন বই তুলে দেয়া এবং দুর্গম হাওরাঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে নেয়া হয়েছে আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় জনপ্রিয় লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের আগমন শিক্ষাঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। সাফল্য আসে ৩৬ তম বিসিএসে।…..
শিক্ষাক্ষেত্রে বছরের সেই স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত নিয়ে আজকের সালতামামি।
বই উৎসব
জানুয়ারি ১, ২০১৭
বছরের প্রথম দিন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়। প্রাথমিকে ২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪লাখ ৫৫ হাজার ৫শত শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ লাখ ৩ হাজার ২শত পাঠ্যপুস্তক এবং মাধ্যমিকে প্রায় সাড়ে তিনশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪শত ৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৯শত ৬৮টি বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হয়।
আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়
জানুয়ারি ১৭, ২০১৭
দুর্গম হাওরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। হাওরাঞ্চলে শিক্ষার হার বাড়ানো ও দরিদ্র পরিবারের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে একটি করে আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গণিতে গোল্ড মেডেল পেল সুস্মিতা
মে ২৭, ২০১৭
কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুস্মিতা পুরকায়স্থকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। ২১ মে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাহিরপুর উপজেলার সূর্য্যেরগাঁও গ্রামের সুবাস পুরকায়স্থ ও মীরা রানী জোয়ার্দারের তিন সন্তানের মধ্যে সুস্মিতা মধ্যম।
নানা গুণে গুণান্বিত অভিজিৎ
জুন ৩, ২০১৭
ছাতকে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ অভিজিৎ তরফদার। অভিজিৎ শহরের বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা তপন তরফদার ও জ্যোৎ¯œা রানী সেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ছাতক বহুমুখী মডেল হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র। অভিজিৎ তরফদার একাধারে তবলা, সংগীত, অভিনয় শিল্পী। সিলেট বেতারের নিয়মিত শিল্পী। ২০১২ সালে অভিজিৎ জাতীয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অর্জন করে।
বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এসসি বালিকা
জুন ৭, ২০১৭
৩৮ তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় বিভাগীয় পর্যায়ে বির্তক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বির্তক প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের দলনেতা ছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্রী মৈত্রেয়ী দে। সহযোগি ছিলেন একই শ্রেণির নুসরাত জাহান মৌ, মৃন্ময় সরকার।
এইচএসসি ফলাফলে সেরা শাল্লা ডিগ্রি কলেজ
জুলাই ২৩, ২০১৭
এইচএসসি পরীক্ষায় জেলার জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। ৬টি জিপিএ ৫ নিয়ে দুর্গম হাওরপাড়ের শাল্লা ডিগ্রি কলেজ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। ফলাফল প্রকাশের পর শাল্লা কলেজ ছিল জেলায় আলোচনার বিষয়বস্তু। পাশের হার ছিল ৮৩.৩৮ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন সুস্মিতা সরকার চাপা, ঐশি আফসানা, দিতি চৌধুরী পলি, তন্নি দাস, সৌরভ বিশ্বাস ও অমিতাভ চৌধুরী।
‘বিতর্ক বিকাশ’
বিভাগীয় চ্যম্পিয়ন ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়
আগস্ট ২৪, ২০১৭
সারা দেশের মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় মাধ্যমিক স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘বিতর্ক বিকাশ’ বিভাগীয় চ্যম্পিয়ন হয় ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। এরপর জাতীয় পর্যায়েও ফাইনালে উঠে তারা। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সারাদেশের ৩ হাজার বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত স্মিতা
নভেম্বর ২, ২০১৭
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৫ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালে বি.এস.সি (সম্মান) কৃষি অনুষদ থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী স্মিতা দাশ। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের ২০১৫ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। স্মিতা দাশ বৈশাখী শহরের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা যোগেন্দ্র কুমার দাশ ও বীনা রানী তালুকদারের মেয়ে।
অদম্য দুই শিক্ষা সংগ্রামী
নভেম্বর ১৯, ২০১৭
একজন দৃষ্টিহীন অপরজন বাকপ্রতিবন্ধী। জগন্নাথপুরের অদম্য দুই শিক্ষা সংগ্রামী এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি উপ আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষার্থী অর্ধ দৃষ্টিহীন সাবির আহমদ ডান চোখে দেখে কিন্তু বা’চোখে দেখে না। সে বালিকান্দি গ্রামের কৃষক আরজ মিয়ার ছেলে। একই বিদ্যালয়ের শিশু হানিফা বেগম বাক প্রতিবন্ধি।
পবিত্র নূর
ধর্মপাশা উপজেলার নওধার গ্রামের প্রান্তিক কৃষক পরিবারের সন্তান। ফসল হারিয়ে জমি বন্ধক দিয়ে বাবা বাচ্চু তালুকদার ও মা শাহানারা আক্তার সংসার চালাচ্ছেন। অর্থাভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে আশংকা দেখা দেয়। পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর মধ্যনগরের বাসিন্দা সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার ভর্তির খরচ, সিলেটের মোগলাবাজার থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, ফেইসবুক ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন পে-ইট-ফরোয়ার্ড’র সংগঠক সিলেট কর অঞ্চলের কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ হোসেন পবিত্র নূরকে মাসে ২ হাজার টাকা, ঢাকার উৎস্য ইনস্টিটিউট অব সনোগ্রাফির ডিরেক্টর শাহেদুল ইসলাম কয়সর ১৫ হাজার টাকা ও শাহ্পরান থানার ওসি মো. আক্তার হোসেনও তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ান।
জাহিদ হাসান
জমি বাড়িহীন বর্গা চাষী বাবার মোটা অংকের ঋণ ও অর্থ সংকটের কারণে জাহিদ হাসানের মেডিকেল ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ার খবরে পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা সুহৃদরা। মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান (১৮) কে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ৫ হাজার টাকা ও জাহিদের বাবা শফিকুল ইসলামকে সরকারি কৃষি জমি বন্দোবস্ত প্রদানের আশ্বাস, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান ১৫ হাজার ও হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা হেডকোয়াটার্সের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান সরকার ফিরোজ ১৫ হাজার টাকা, কুমিল্লার স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) সদস্য ডা. অঙ্কুর দত্ত ১ম পেশাগত পরীক্ষার যাবতীয় বই ও এপ্রোন, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা ও ইয়েস থিংকিং শিক্ষার্থী জাহিদ হাসনকে নগদ ৬ হাজার টাকা ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য শশাংক শেখর তালুকদার সহায়তা নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
হৃদয় চন্দ্র দাস
‘ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করতে ঋণের জন্য ঘুরছেন হৃদয়ের বাবা’ সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ধর্মপাশার সরিসাম গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান হৃদয় চন্দ্র দাসকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ১৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন সিলেটের এক পুলিশ কর্মকর্তা ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটায় (মেধাক্রম ৪৫৩৭) উত্তীর্ণ হয় হৃদয়।
আমির হোসেন
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের পাড়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও তার পড়ালেখার খরচ জোগাতে সহযোগিতা করেছেন অনেকেই। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নেয়ার সময় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া দেড় শতক জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন জগন্নাথপুর থানার ওসি মোহাম্মদ হারুন রশিদ চৌধুরী, জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম.এ কাদির ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১০ হাজার টাকা, কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম ১০ হাজার টাকা, উপজেলা আওয়ামীলীগ কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শেরিন ১০ হাজার টাকা, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলামীন রহমান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী হবিবপুর গ্রামের শামসুল ইসলাম রাজন বন্ধুদের নিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সায়মা জাহান ফনি
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কামিয়াম গ্রামের দিনমজুর মো. সাদেক জামানের ৪ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে ২য় মেয়ে সায়মা। এবার এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৬৪ পেয়ে ভর্তি হয়েছে নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে। ৭০ বছর বয়সী বাবা আগের মতো কর্মক্ষম না থাকায় সায়মা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করছে অনেক আগে থেকেই। পূরণ হবে পারে সায়মার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ?
মাহবুব আলম
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের মৃত. আব্দুল হান্নানের তৃতীয় ছেলে মাহবুব আলম। এসএসসি পরীক্ষায় জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.৬৮ পেয়ে ভর্তি হয়েছে সিলেট পলিটেকনিক্যাল ইন্সস্টিটিউটে ইলেকট্রিকেল টেকনোলজি বিভাগে। বড় ভাই মো. মোস্তাকিন আহমদ শিবলু পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকায় একটি ক্লিনিকে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। মাহবুব টিউশনির টাকায় মা, বড় বোন ও ছোট ভাইয়ের খরচ চালানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাচ্ছে। জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে তারা। পরিবার ও নিজের পড়াশোনা চালানো মাহবুবের সামনে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ।
পিনু বৈষ্ণব
দিরাই পৌরসদরের শুকুর নগর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান পিনু বৈষ্ণব। বাবার চিকিৎসা এবং একমাত্র বোনের বিয়েতে নিজেদের জমিজমা বিক্রি করতে হয়। বাবার মৃত্যুর পর পিনু টিউশনি ও দিরাই সদরে একটি লাইব্রেরিতে পার্টটাইম কাজ করে চালায় পড়াশোনা ও সংসারের খরচ। বড় ভাই পলাশ দিরাই সেন মার্কেটে একটি টেইলার্সের দোকানে কাজ করে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে দিরাই ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সিলেট মদন মোহন কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয় পিনু। এখন একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ ও টিউশনি করছে সে।
অমিত দাস
দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের পিতৃহারা অমিত পড়ছে সিলেট এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগে। থাকে এক বড় ভাইয়ের মেসে অতিথি হিসেবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটি কোম্পানির মার্কেটিংয়ের কাজ, সেখান থেকে ফিরে আবার টিউশনি করছে। ২০১৬ সালে দিরাই ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সেসময় অমিত ও তার ছোট ভাই সৈকতকে চাষাবাদ ও অন্যের জমিতে কাজ করে সংসারের ও তার পড়াশোনার খরচ বহন করেছে। মা ও ভাই বোনদের এবং নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাতে এখন দিগি¦দিক ছুটছে মেধাবী তরুণ অমিত।
নূর মোহাম্মদ
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের কৃষক মো. আফতাব উদ্দিনের বড় ছেলে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিশ্বম্ভরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.২৭ পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজে। ৬ সদস্যর পরিবারে বাবার সামান্য আয়ে চলে না। সেজন্য নূর মোহাম্মদকে দিন মজুরের কাজ করতে হয়।
ঝলক দাস
দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের মংলারগাঁও গ্রামের অধিবাসী সে। বাবা দিনমজুর গোপাল দাস। স্থানীয় একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে চাকরি করে সংসার ও লেখাপড়ার চালিয়ে যাচ্ছে। এসএসএসি পরীক্ষায় দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ৩.৯৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজে।
প্রণব দাস
বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের দুই ভাই এক বোনকে নিয়ে মা জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নে অন্যের বাড়িতে থাকেন। বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করেও ছেলে মেয়েদের ভরণপোষণ ও পড়ালেখার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন তিনি। প্রণব পরিবারকে সহযোগিতা ও নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতে মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে। আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৭৭ পেয়ে শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে প্রণব।
মো. কবির হোসেন
সদর উপজেলার পৈন্দা গ্রামের মো. শুকুর আলী ও মোছামৎ রেহেনা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় মো. কবির হোসেন। বাবা অসুস্থ, মা ওয়েজখালি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে কাজ করেন। বালু শ্রমিকের কাজ করে হাজী গণিবক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৪৫ পেয়ে ভর্তি হয়েছে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে।
৩৬ তম বিসিএসে সাফল্য
পুলিশ ক্যাডারে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের আক্কাস আলী, মধ্যনগর থানার বংশিকু-া দক্ষিণ গ্রামের মো. স¤্রাট তালুকদার, প্রশাসন ক্যাডারে তানিয়া আক্তার, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের মো. সফিকুল ইসলাম, দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের সন্দ্বীপ তালুকদার, ট্যাক্স ক্যাডারে পৌর এলাকার পশ্চিমবাজারের অর্পা বণিক, কৃষি ক্যাডারে পৌর এলাকার বাঁধনপাড়ার মুক্তা সরকার, মধ্যনগর থানার জমশেদপুর গ্রামের সজীব সরকার, শিক্ষা ক্যাডারে পৌর এলাকার বিলপাড়ের মাছুমা আক্তার তন্বি, শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের রাহুল সরকার, লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মাসকুরা বেগম, তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের মোদেরগাঁও গ্রামের রাসেল আহমদ, শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের হবিবপুর গ্রামের সুজন তালুকদার, আনসার ক্যাডারে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সোনাপুর-চাঁনপুর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র দত্ত নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে।


