লিপসন আহমেদ
‘ছোটবেলা থেকে যার কথা জানতাম, যার বই পড়েছি, যাকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতাম সেই প্রিয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আসবেন আমাদের বিদ্যালয়ে। স্যারকে সামনা সামনি দেখতে পারবো, অনেক কিছু জানতে পারবো। আমাদের সৌভাগ্য স্যারের সাথে একটি দিন কাটাতে পারবো। আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমাদের এ সুযোগ করে দেয়ায় বিদ্যালয়ের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ।’ প্রিয় স্যার আসছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করতে তোমাদের কেমন লাগছে ? জিজ্ঞাসা করতেই আনন্দে, আবেগ ও উচ্ছাসে এই কথাগুলো বলছিল বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করবেন সকাল ১০টায়। কিন্তু সকাল ৮টা আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। এরপর অপেক্ষা। অবশেষে বেলা ১১টায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করলেন তিনি। অবসান ঘটল অপেক্ষার।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন করে শিক্ষার্থীদের স্টল ঘুরে দেখার সময় ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেজুতি তালুকদার নদী বলে উঠে ‘আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে, আমি আমার প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পেরেছি।’ এই কথা বলে কাঁদতে শুরু করে সে।
প্রিয় স্যারের উদ্দেশ্যে ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ পত্রিকায় চিঠিও লিখেছিল সে। মেলায় ‘জ¦ালানি বিহীন বিদ্যুৎ’ নিয়ে একটি উদ্ভাবনী প্রকল্পও সে তৈরি করে। ড.মুহম্মদ জাফর ইকবালকে প্রণাম করে স্যারকে নিয়ে নিজের লেখা তিনটি ডায়েরি ও চিঠি উপহার দেয় নদী।
শুধু নদী নয়, ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম জানান, ‘আজ আমরা খুব খুশি যে আমাদের স্কুলে এমন একজন মানুষকে দেখতে পেয়ে।’
৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনতিয়া বলেন, ‘আমি যখন শুনেছি যে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল স্যার আমাদের স্কুলে আসবেন তখন থেকে আমি আমার বাবাকে বলেছি বিজ্ঞান প্রযুক্তি মেলায় মোবাইল ফোন দিতে হবে, আমার প্রিয় শিক্ষক সেদিন স্কুলে আসবেন। ছবি উঠাব তাঁর।


