আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি (আব্দুস সামাদ আজাদ) মহাসড়কের কুশিয়ারা নদীর ওপর রানীগঞ্জ সেতুর কাজ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী পরির্দশন করেছেন। শনিবার দুপুরে পরির্দশনকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, চলতি বছরই সেতুটির কাজ শেষ করে যানবাহন চালু করা হবে। এজন্য দ্রুত সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে তিনি নির্দেশ দেন। এছাড়া মন্ত্রী জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর বাজারের বাহির দিক দিয়ে মহাসড়কের বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম, সুনামগঞ্জের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপ সহকারি প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সুন্দর আলী, পৌর কাউন্সিলর আবাব মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলামসহ দলীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে জগন্নাথপুরের প্রাচীনতম বানিজিক কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত রানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। ৭০২.৩২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্তের ১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির কাজ পায় এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। সেতুটির ১৫টি স্প্যান ও ১৪টি পেয়ার থাকবে। ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি স্প্যান বক্স গার্ডার। অ্যাপ্রোচ সড়ক আড়াই কিলোমিটার।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বলেন, সুনামগঞ্জের সিংহদ্বার হিসেবে খ্যাত রানীগঞ্জ সেতুটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানীতে যাতায়াতে ৫২ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রানীগঞ্জের ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম রিজু বলেন, কুশিয়ারী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি ঘিরে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনায় বিভোর এলাকাবাসী। সেতুটির কাজ শেষ হলে অত্র এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সম্ভাবনার এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহকারি প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি বছরের শেষের দিকে সেতুটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এরমধ্যে সেতুর ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেই বিশ্বাস করি আমি।


