স্টাফ রিপোর্টার
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তিচ্ছুক জাহিদ হাসানকে নিয়ে মঙ্গলবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘বর্গাচাষীর ছেলে জাহিদের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তার পাশে দাঁিড়য়েছেন অনেকেই।
ধর্মপাশার বিলালপুর গ্রামের দরিদ্র বর্গাচাষীর ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান (১৮) কে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষা সুহৃদ। মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসক এবং শিক্ষা সুহৃদরা জাহিদ হাসান ও তার বাবা শফিকুল ইসলামের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
জাহিদ হাসানকে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম নগদ ৫ হাজার, নগদ ১৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা হেডকোয়াটার্সের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান সরকার ফিরোজ। দুই পুলিশ কর্মকর্তা দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের মাধ্যমে জাহিদ হাসান ও তার বাবা শফিকুল ইসলামের হাতে নগদ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকালে জাহিদ হাসানকে অফিসে ডেকে নিয়ে ভর্তির বিষয়ে খোঁজ খবর নেন এবং নগদ ৫ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। জাহিদ হাসানের বাবা ভূমিহীন কৃষক শফিকুল ইসলামকে সরকারি কৃষি জমি বন্দোবস্ত প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়াও সমকাল সুহৃদ সমাবেশ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা ও ইয়েস থিংকিং শিক্ষার্থী জাহিদ হাসনকে নগদ ৬ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এদিকে দুপুরে সুনামগঞ্জের খবর কার্যালয়ে জাহিদ হাসানকে আরো কিছু নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন সুনামগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনের ব্যবসায়ী প্রাক্তন ইউপি সদস্য শশাংক শেখর তালুকদার বিন্দু।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্মেলন কক্ষে জাহিদ হাসান ও তার বাবা শফিকুল ইসলামের হাতে শিক্ষা সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, কবি ইকবাল কাগজী, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, অনলাইন সম্পাদক ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদার, পুলিশ সদস্য মো. হাফিজুর রহমান মানিক, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ রায়, অর্থ সম্পাদক সুমন রায়, সুহৃদ সাদিুকর রহমান খান রুবেল, সুনামগঞ্জের খবরের স্টাফ রিপোর্টার লিপসন আহমদ, এনামুল হক জুবের ।
জাহিদ হাসান জয়শ্রী ইউপির বিলালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও খোদেজা বেগমের সন্তান। ৫ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। জাহিদ হাসান এবারের এমবিবিএস পরীক্ষায়ী মেধা তালিকায় (ভর্তি রোল ১৭০২১৩) হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আগামী ২৮ অক্টোবর ভর্তির তারিখ। তবে আর্থিক সংকটের কারণে মেডিকেল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত ছিল তাঁর।
জাহিদ হাসানের বাবা শফিকুল ইসলাম একজন বর্গা চাষী। প্রতি বছর অন্যের জমি বর্গা চাষ করে পরিবারের সকলের ভরন পোষন ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগান। এবছরও তিনি ৪ একর (১২ কেদার) বোরো জমি বর্গা চাষ করেছিলেন। হাওর ডুবিতে তাঁর সকল স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁর মেধাবী সন্তানরা।
কৃষক শফিকুল ইসলামের এইচ.এস.সি পাশ তিন সন্তান আশরাফুজ্জামান, জাহিদ হাসান ও মনসুর আলম তিনভাই একসাথে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ) ভর্তির জন্য আবেদন করেন। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পরীক্ষায় পাশ করেন জাহিদ হাসান। তাঁর বড় ভাই আশরাফুজ্জামান ও ছোট ভাই মনসুর আলম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাদের একমাত্র বোন শাপলা আক্তার ও ৪র্থ ভাই আলমগীর আলম জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষার্থী ও সবার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষার্থী। কৃষি কাজ করেই সবার লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন কৃষক শফিকুল ইসলাম।
মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। পিএসসি, জেএসসিতে বৃত্তি পান। জয়শ্রী গ্রামের বিজ্ঞানী ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকির বড় ভাই স্কুল শিক্ষক মাজহারুল আলম সিদ্দিকির সহায়তায় লজিং-এ থেকে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। সিলেট শহরে ছাত্র পড়িয়ে এমসি কলেজ থেকে এবছর এইচ.এস.সি পাশ করেন। মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান অর্থকষ্টে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম না হলেও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জমি-বাড়িহীন বর্গা চাষী বাবার মোটা অংকের ঋণ ও অর্থ সংকটের কারণে জাহিদ হাসানের মেডিকেল ভর্তি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার সংবাদ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হওয়ায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা সুহৃদরা।


