স্বাগত ১৪২৩ ‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবিকিরণে’

স্টাফ রিপোর্টার
বছর ঘুরে আবার এলো পহেলা বৈশাখ। ১৪২২ বাংলার (বঙ্গাব্দ) প্রথম দিন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ একাত্মা হয়ে গাইবে,‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ…।’ আনন্দে উল্লাসে মাতবে গোটা দেশ। অতীতকে পেছনে ফেলে আজ নতুন বছরকে বরণ করে নেবে সবাই। ফসল তোলার আনন্দে নতুন স্বপ্ন বুনবে বাংলার কৃষক। নতুন হালখাতা খুলবে ব্যবসায়ীরা। কবিগুরুর ভাষায়- নব আনন্দে জাগো আজি নবরবিকিরণে/ শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল জীবনে…।’ একই আনন্দের প্রকাশ ঘটিয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!/তোরা সব জয়ধ্বনি কর!/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়/তোরা সব জয়ধ্বনি কর…।’
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নতুন বর্ষকে বরণ করে নেওয়ার সবচেয়ে বড় জাতীয় এই উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে বিগত বছরের দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, অপশক্তির অবসান হবে এই প্রত্যাশা নিয়ে আজ সবাই পালন করবে পহেলা বৈশাখ।
বাংলা নববর্ষের সঙ্গে সবচেয়ে নিবিড় সম্পর্ক কৃষির। কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরনো আচার অনুষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটেছে। আবার যুক্ত হয়েছে অনেক নতুন আয়োজন। ঘরে ঘরে বিশেষ খাবারের আয়োজনের সাথে বৈশাখী মেলা, নাচ-গান সহ বিনোদনের বিপুল আনন্দ আয়োজন থাকছে আজ।  আজ এ শুধু বৈশাখী উৎসব    
 নয়, নতুন করে জেগে ওঠার দিন। নতুন বছরের নতুন সূর্যোদয় সবার জীবনে জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তাও নিয়ে আসবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ এ চিরন্তন আকাক্সক্ষা আজও সকল মত ও পথ নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে দোলা দেবে।  
বাংলার হাজার বছরের বহমান লোকজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারায় বর্ষবরণ যুক্ত করেছে অসাম্প্র্রদায়িকতার এক নতুন অধ্যায়। সম্প্রীতির বাংলা নববর্ষে আমরা প্রত্যাশা করি আপাত রুদ্র বৈশাখ, কালবোশেখির তীব্র থাবা যেভাবে ধ্বংস করে যত আবর্জনা, উড়িয়ে নেয় জীর্ণ-মলিন রিক্ততার দিন, ধ্বংসের ওপর সৃষ্টি করে নতুন বসতি; সেভাবে যেন নতুন বছরের দিনগুলোতে ধ্বংস হয় সংকীর্ণতা আর সাম্প্রদায়িকতার-অপশক্তির। যেন মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত অসাম্প্রদায়িক চেতনা, নতুন শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যায় মহাকালের পানে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সবচেয়ে বড় অসাম্প্র্রদায়িক উৎসব।
বাংলা নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো বছরভর ছড়িয়ে পড়ুক। সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক সবার জীবন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে তিনদিনব্যাপি বৈশাখী মেলা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সকাল ৯টায় পান্তা উৎসব, ১০টায় র‌্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণ, হাসপাতাল, জেলখানা ও শিশু পরিবারে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন, বিকাল ৪টায় সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব ও হাডুডু প্রতিযোগিতা, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে কারাবন্দীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১ বৈশাখ থেকে ৩ বৈশাখ পর্যন্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর রয়েছে দিনব্যাপী বর্ষবরণ কর্মসূচী। সকালে সম্মিলিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ শেষে ১০ টায় ঐতিহ্য জাদুঘরের সন্মুখের বটতলায় শুরু হবে উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  এ উপলক্ষে উদীচী শিশুদের চিত্রঙ্কন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে।
এদিকে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পরিষদের আয়োজনে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২০১৫ সালের এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, সেলাই প্রশিক্ষণার্থী, কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থী ও ইলেকট্রিক প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী বারী সিদ্দিকীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।