রাশি রাশি সম্ভাবনা, অনেক উদ্বেগ, বহু হতাশা আর অসীম স্বপ্নরাজি চোখে নিয়ে আজ থেকে শুরু হলো নতুন এক বছরÑ২০২৩ খ্রিস্টিয় সন। আগের বছরের অনেক বিষয় স্পষ্ট হবে এ বছর, অনেক অপূর্ণ কাজ পূর্ণতা পাবে নতুন বছরে। সময়ের ধারাবাহিকতা কখনও এক জায়গায় আটকে থাকে না। সেটি প্রবহমান। আটকে থাকলে বন্ধ্যাত্ব এসে গ্রাস করে। সৃজনশীল মানুষ কখনও নিশ্চল থাকে না। তাই নতুন বছর মানেই আগের খতিয়ান খাতা বন্ধ করে নতুন করে শুরু করার কিছু নেই, আগের ধারাক্রমকে ইতিবাচক পরিণতি দান করতে পারলেই তা হবে সার্থক। আমরা সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকে খ্রিস্টিয় নতুন সনকে স্বাগত জানাই। শুভ নববর্ষ সকলকে।
বলা যেতে পারে এই বছরটি হলো নির্বাচনের বছর। ২০২৪ সনের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছরের পুরো রাজনৈতিক কার্যক্রম আবর্তিত হয়েছে। সেই আবর্তনের পূর্ণতা প্রাপ্তির বছর হবে এটি। এ সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল অনেক বেশি সংহত হয়ে জনসম্মুখে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারি দলের নানা কর্মকাÐের জন্য জনগণের নেতিবাচক মনোভাব কোনো বিকল্প না পেয়ে পুরানো ক্ষমতাকেন্দ্রের দিকে কিছুটা ঝুঁকে গেছে বলেই দাবি করা হচ্ছে। সরকারি দলকে জনসমর্থনের এই ঘাটতি মিটিয়ে নতুন উদ্যমে মানুষের মনের ভিতর জায়গা ফিরে পেতে অনেক কাজ করতে হবে। যদি এমনটি হয় তাহলে বলা যেতে পারে আজ থেকে শুরু হওয়া বছরটি জনগণের জন্য হবে স্বস্তি ও আনন্দের। রাজনৈতিক উত্তাপ বেশ জোরোলো হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তিকে পয়েন্ট অব নো রিটার্ন অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। তবে পুরো বছর এই অবস্থান একই থাকবে নাকি বরফ চূড়া তাপ পেয়ে গলতে শুরু করবে তা আরও কয়েক মাস যাওয়ার পর বুঝা যাবে। জনগণ কখনও রাজনৈতিক সহিংসতা পছন্দ করে না। জনগণ চায় স্থিতিশীল পরিবেশ। নিছক ক্ষমতা পরিবর্তন কিংবা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠুক তা সমর্থন করার জন্য আমাদের দেশে একজন মানুষও খোঁজে পাওয়া যাবে না। মানুষের এই মনোস্তত্ত¡ অনুধাবন করে রাজনৈতিক দলগুলোকে পারষ্পরিক আস্থায় আসতে হবে এই বছরে। যদি প্রধান দলগুলো আস্থা ও সমঝোতার জায়গায় পৌঁছাতে না পারেন তাহলে ভবিষ্যত যে খুব সুখকর হবে না তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বিবেচনায় ২০২৩ সনটি বিশেষ টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে ভূমিকা রাখবে।
সর্বাবস্থায় সুষম উন্নয়নই কাম্য হয়। কিন্তু তা হয় না। আমরা যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নীতি অবলম্বন করে চলেছি সেখানে জনগণের সুষম উন্নয়নের জায়গাটি অনেক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে একটি বিশেষ শ্রেণি নানা কায়দাবাজি করে, ব্যাংক লুট করে, বাণিজ্যিক দৃর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে বা অন্যবিধ অসাধু পন্থায় সম্পদের পাহাড় তৈরি করেছে কিন্তু একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যাপক ও সংখ্যাগরিষ্ট সাধারণ মানুষের জীবন রয়ে গেছে একেবারেই হতাশার অন্ধকারে। যদি উন্নয়নকে গোষ্ঠীবিশেষের পরিবর্তে সকলের জন্য সুষম করে তুলতে হয় তাহলে অবশ্যই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা এই পরিবর্তনের সূচনা দেখতে চাই নতুন বছরে। বলা দরকার, দেশটি দাঁড়িয়ে আছে, টিকে আছে, সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ওই সাধারণ মানুষের উচ্ছ¡ল ও অদম্য প্রাণশক্তির কারণে। এই বিপুল প্রাণশক্তির আবেগ ধারণ করতে না পারার অর্থ হলো গণবিচ্ছিন্নতা। আমরা আশা করব দেশটি যাদের মাধ্যমে শাষিত হয় বা হবে তারা যেন গণবিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে গণসংলগ্নতার পথে হাঁটেন।
নতুন বছরে সকল বিভেদ দূর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হোক। সকলে জীবন ও জীবিকা পরিচালনার একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ পান, নতুন বছরে এই আমাদের কামনা।


