সু.খবর ডেস্ক
কবি নির্মলেন্দু গুণকে ২০১৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে বলে রবিবার জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘নির্মলেন্দু গুণকেও এবার স্বাধীনতা পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আগে ১৪ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এ পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে নির্মলেন্দু গুণকেও পদক দেওয়া হবে।’
এ বছর স্বাধীনতা পদকের জন্য গত ৭ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রয়াত বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ ১৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নাম ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ওই তালিকায় নিজের নাম না থাকায় গত ১০ মার্চ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।
‘আমাকে স্বাধীনতা পদক দিন’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার একদা সহপাঠিনী, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার দৃষ্টে আমি প্রথম কিছুকাল অবাক হয়েছিলাম- কিন্তু আজকাল খুবই বিরক্ত বোধ করছি। অসম্মানিত বোধ করছি। ক্ষুব্ধ বোধ করছি। আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসেবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভিতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনও রয়েছে। পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে এক সময় আমাকে এই পদকটি দেয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন।’
এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০০ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করেছিল- একথা উল্লেখ করে ফেসবুকে গুণ আরো লেখেন, ‘কিন্তু সেই পদক তিনি নিজ হস্তে আমাকে প্রদান করে যেতে পারেননি। তখন নিয়ম ছিল প্রাপকের নাম ঘোষণার পরের বছর পুরস্কার দেওয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া হাসিমুখে আমাকে একুশে পদক প্রদান করেন।’
নির্মলেন্দু গুণ আরো লেখেন, ‘শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পদকের মুলোটি আমার নাকের ডগায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কিছুতেই সেটি আমাকে দিচ্ছেন না। উনার যোগ্য ব্যক্তির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হতে হতে আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় আমার স্থান হচ্ছে না।’

