প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সক্রিয় হয়েছেন সমাজকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের জামে মসজিদে শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিনি অতিসম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তাঁকে মসজিদের সামনে দেখেই মুসুল্লিরা বের হয়ে বললেন, ভাই আপনি মসজিদে নামাজ আদায় না করে, আপনার বাড়ীতে একা নামাজ আদায় করুন। ওই প্রবাসী সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে যান তার নিজ বাড়ীতে। শনিবার সকালে এ প্রতিবেদককে ফোন করে শহরের ষোলঘর এলাকার এক বাসিন্দা বললেন, ভাই আমাদের মহল্লায় একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কয়েকদিন হয় এসেছেন, তিনি ঘরে না থেকে সারাদিন এখানে ওখানে যাচ্ছেন, বিষয়টি একটু পুলিশকে জানিয়ে দিলে ভাল হয়।
গত তিনদিন ধরে এভাবেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষসহ সমাজকর্মীরা।
সুনামগঞ্জে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালী, স্পেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৩৪৮ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৬৫ জনের ঠিকানা পায়নি পুলিশ, হোম কোয়ারেন্টাইনে অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ ঘরে থাকছেন ১৩৭ জন। অন্যরা যার যার মতো করে ঘুরছেন। এই বিষয়টি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাড়ানোয় গত পাঁচদিন ধরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রচারণা চালানোয় গ্রামেগঞ্জে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। সমাজকর্মীরা মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, যার যার এলাকায় আসা প্রবাসীদের নিজ ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির ঘটনাও ঘটছে।
সুনামগঞ্জ বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম বললেন, প্রবাসীদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এই বিষয়ে পরিবার থেকেই উদ্যোগি হতে হবে। যে পরিবারের প্রবাসী ওই পরিবারের এবং প্রবাসী’র নিজেরও সচেতন হতে হবে। সমাজকর্মীরা ভূমিকা রাখা শুরু করেছেন, এটি ইতিবাচক দিক, তবে এই ইস্যুতে অন্যায়ভাবে কোন প্রবাসীকে হয়রানি করলে, সেটি দু:খজনক হবে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুর রহমান জানালেন, শুক্রবার শহরের কালীবাড়ী’র একটি পরিবারে ইতালী প্রবাসী এসেছেন এমন খবর চাউর হয়, পরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই সংবাদ সঠিক নয়। শনিবার শহরের সরকারি পুকুরপাড় এলাকায় এক তুরস্ক প্রবাসী ঘরে থাকছেন না বলে পুলিশকে জানানো হয়, পুলিশ গিয়ে দেখেছে তিনি ঘরেই আছেন।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন বললেন, সামাজিক সচেতনতা বাড়লে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখা যাবে। প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সামাজিক উদ্যোগ জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে। এটা ইতিবাচক দিক। তবে মনে রাখতে হবে। একজন প্রবাসী দেশে ফেরার পর ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর তিনি ঝুঁকিমুক্ত। ১৪ দিন পর তাকে ঘরের বাইরে আসতে বাধা দেওয়া ঠিক হবে না।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মিজানুর রহমান বলেন, বিদেশী কেউ দেশে ফিরলে ১৪ দিন অবশ্যই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এই বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্স। এই ব্যাপারে সকলকে তথ্য দেবার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। লোকজন তথ্য দেওয়া শুরু করেছেন, এটি ইতিবাচক দিক। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি না করার বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে।