ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া হৃদি রায় নামে সেই প্রার্থী অবশেষে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী বুধবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন। হৃদি রায় তার জাতীয় পরিচয়পত্রের পেছনের অংশ স্ক্যান করে গ্রাম ও ডাকঘরের ঠিকানা পরিবর্তন করে প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব সনদ নিয়ে চাকরি লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে হৃদি আরও একটি ভুয়া সনদ তৈরি করে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরবরাহ করেছিলেন।
হৃদি রায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অধীনে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে নিয়োগ লাভ করে গত ৩০ নভেম্বর চাকরিতে যোগদান করেন। ওই পদে মধ্যনগর ইউনিয়নের ৩/খ ইউনিটের শুধুমাত্র গলহা, বনগাঁও, কলুমা, করুয়াজান ও মাছুয়াকান্দা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। হৃদি রায় নিজেকে গলহা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা দেখিয়ে নিয়োগ লাভ করেন। কিন্তু নিয়োগ না পাওয়া শামীমা আক্তার নামে আরেক প্রার্থী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে হৃদি রায়কে একই ইউনিয়নের ইটাউরি গ্রামের বাসিন্দা বলে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালক বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান রনিকে দায়িত্ব দেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মিজানুর রহমান রনি মধ্যনগর ইউপি কার্যালয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে হৃদি রায়ের নাগরিকত্ব সনদপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তদন্ত কমিটির কাছে একটি প্রত্যয়ন দিয়েছেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী বলেন, ‘হৃদি রায় পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’


