কবি অ্যাড. রোকেস লেইস
সাব্বির আহমদ সোহেল, অভিজিত চৌধুরী বিজিত, দ্বীগবিজয় শর্মা চৌধুরী শিবু, গানের শহর সুনামগঞ্জের গানের প্রাণ। একই শহরে একই সময়ে বেড়ে উঠা তিন জনই কাছের বন্ধু। ঘনিষ্ঠ আড্ডার বলয়ে যখনি কাছাকাছি হয়েছি, কে গানের মাত্রা-লয় ভালো বোঝে, কার গানের তালে কমতি আছে, কার গান মোটেই হয় না। এদের এই পরস্পর বিরোধী অভিযোগ, অনুযোগ, আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ কতো যে সামাল দিতে হয়েছে, অথচ তিনজনই পরস্পর ছিলো খুবই ভালো বন্ধু, শুধুমাত্র গান নিয়ে পরস্পর শ্রেষ্টত্বের লড়াইটা ছাড়া। গানের বিষয়ে তিনজনই আপোষহীন প্রতিদ্বন্দ্বী। কালের যাত্রায় সোহেল সকলের আগেই চলে গেছে। যার হাঁটা চলা কথাবলায় চোখ মুখ সারা অঙ্গ ঢেউ তুলতো যেনো সুরলহরী। পান চিবিয়ে ঠোট প্রায় সারাক্ষণই থাকতো লাল টুকটুক।
বিজিত আকস্মিক স্ট্রোক করে চলৎশক্তি হারিয়েছে, হারিয়েছে বাকশক্তিও। অব্যক্ত ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকে, কিছু বলতে চাইলে প্রচ- কষ্টে গোঙ্গানোর আওয়াজ হয়। যার দরাজ কণ্ঠের গানের সুরে সুরে শ্রোতারা হয়েছেন পরিতৃপ্ত আবেগ তাড়িত, আজ সে কন্ঠ সুরহীন।
শিবু বেশ ক’বছর হলো দৃষ্টি হারিয়ে ভিন্ন জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। চোখ হারানোর খবর জেনে দু’এক দিনের মধ্যে তাকে দেখতে গেলে প্রচন্ড মানসিক শক্তির শিবু উল্টো স্বান্তনা দিয়ে বিদায় করে অল্প দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবে সে ব্যাপারে প্রায় নিশ্চয়তাসহ। মাঝেমধ্যে কোর্টে আসতো কথা হলেই সুস্থ হয়ে যাবে নিশ্চিত করেই বলতো। তার মানষিক শক্তি দেখে অভিভূত হতে হতো।
গত বৎসর তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। সিলেটে পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। আইসিইউতে তাকে দেখে ডাক্তারের সাথে কথা বলে যতোটুকু জানতে পারি, অবস্থা যথেষ্টই জটিল। নীচে এসে তার ছেলে ডিউকের সাথে কথা বলে স্বান্তনা দিলেও আশঙ্কা নিয়ে ফিরে আসি। শুধুমাত্র মানসিক শক্তির জোড়েই সে যাত্রা শিবু সুস্থ হয়ে ফিরে আসে।
গত বছরের শেষ দিকে শিবু কোর্টে আসে বিজ্ঞ অতিঃ দায়রা আদালতে খুনের আসামীর পক্ষে জামিন শুনানি করে, সফল হয়। কোর্টে এ-টি তার শেষ উপস্থিতি। আজ সকালে উঠেই দুঃসংবাদটি পাই ফেসবুকে। শিবুর সাথে আর আড্ডা হবে না। সবসময়ই হাসিখুশি শিবু আজ স্মৃতি।
অন্য ভুবনেও শিবু থাকুক হাসি গানে আনন্দে মশগুল, থাকুক স্বর্গসুখে একান্ত কামনা।
১৯০৮২০২০


