আকরাম উদ্দিন
‘ক্লাবফুট’ বা বাঁকা পায়ের পাতা। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর পায়ের পাতা ভেতর দিকে বাঁকানো। এটা শিশুর জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধীকতা। সঠিক চিকিৎসার অভাবে শিশু সারা জীবনের পঙ্গু। শিশু হবে সমাজ বা পরিবারের বুঝা। এটা শিশুর পিতা মাতার সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তা। ২০০৯ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগের চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশন নামের সংস্থা এ পর্যন্ত সাড়ে ২৭ হাজার ‘ক্লাবফুট’ রোগে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা প্রদান করেছে।
বিগত সময়ে সুনামগঞ্জের রোগীরা সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আসা যাওয়ায় নানা হতাশায় পড়েছেন। কোনো কোনো রোগীর অভিভাবক সঠিক সময়ে শিশুকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে নানাভাবে আর্থিক সংকটেও পড়েছেন। এই সমস্যা নিরসনে ‘ক্লাবফুট’ রোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন হয় শহরের স্যানক্রেড হাসপাতালে।
শনিবার সকাল ১১টায় শহরের ধারারগাঁও এলাকায় স্যানক্রেড হাসপাতালে দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাবফুট রোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর শরীফুল ইসলাম, সিলেট বিভাগের ইনচার্জ ফিজিও চিকিৎসক মারুফ আহমদ চৌধুরী, স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তপন রুরাম, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মুজিবুর রহমান, স্যানক্রেড কমিউনিটি হেল্থ সার্ভিস সেন্টার এন্ড হসপিটালের প্রিন্সিপাল পলাশ চিছাম, ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম, ডা: নিশাত তাসনিম।
সভায় স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তপন রুরাম বলেন, পরিবারে সচেতনতার অভাবে ‘ক্লাবফুট’ নামের রোগে আক্রান্ত হয় জন্ম নেয়া শিশুরা। এই রোগে আক্রান্ত হলে পা দু’টি বাঁকা হয়। রোগে আক্রান্ত শিশুর দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। জন্মের পর চিকিৎসা নিলে ৩ বছরে পুরোপুরি ভাল হবে কিন্তু টানা ৫ বছর অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে। সঠিক সময়ে যতœসহকারে পুরোপুরি চিকিৎসা না নিলে সারা জীবন আক্রান্ত শিশু পঙ্গু হয়ে থাকবে।
দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর শরীফুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে সুনামগঞ্জের স্যানক্রেড হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা পুরোদমে চলবে। যেসব শিশুর যথা সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে অবশ্যই সম্পূর্ণ ভাল হবে। তিনি বলেন, ‘ক্লাবফুট’ রোগে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তাদের একই গোষ্ঠীতে বিয়ে, কম বয়সে বিয়ে, গর্ভবতী মাকে দুশ্চিন্তামুক্ত না রাখা, স্বামী-স্ত্রী বা স্বামী ধুমপান করা এবং গর্ভকালীন সময়ে মায়ের পেটের পানি কমে যাওয়ায় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।


