সড়ক দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুনামগঞ্জ-বেতগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া এলাকার দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৮টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এসব গ্রামের মানুষের জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। বারবার সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো ফল হয়নি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ১৩টি এবং কুরবানগর ইউনিয়ননের পাঁচটি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরের যাতায়াত করেন। অনেকেই এসব গ্রাম থেকে চাকরি ও দৈনন্দিন কাজে প্রতিদিন জেলা শহরে আসা-যাওয়া করেন। মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বল্লভপুর, ফতেপুর, লালপুর, রামেশ্বরপুর, খাগুড়া, দুর্লবপুর, সাদকপুর, রহমানপুর, বুড়িস্থল, জালালপুর, ইছাগড়ি,  
আবদুল্লাহপুর, ছিন্নাতপুর; কুরবাননগর ইউনিয়নের আলমপুর, নুরপুর, কান্দাগাঁও, লালারচর,  নোয়াগাঁও গ্রামের মানুষদের জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন ও কুরবানগর ইউনিয়নের মধ্যবর্তীস্থানে ওই সড়কের ওপরে বেতগঞ্জবাজারের অবস্থান। জেলা শহর থেকেও নানা প্রয়োজনে লোকজন ওই বাজারে যাতায়াত করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়া সড়কের বুড়িস্থল পয়েন্ট থেকে বেতগঞ্জ বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটারজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সাদকপুর গ্রামের পাশে খানখন্দ বেশি। কোনো কোনো স্থানে সড়কের ঢালাইয়ের পাথরের খোয়া উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে এসেছে। আবার কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। এসব গর্তে কাদাপানি জমে আছে।
সাদকপুর গ্রামের বাসিন্দা সামসুজ্জামান বলেন,‘ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সারা বছরই আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টির দিনে এই দুর্ভোগ আরও বাড়ে।’ বেতগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা শহর থেকে মালামাল নিয়ে আসতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয় বেশি। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। বেহাল সড়কের কারণে টেম্পো, সিএনজি মাল নিয়ে আসতে চায় না। আলমপুর গ্রামের সিএনজিচালক আবুল খয়ের জানান,‘সড়কের কারণে সিএনজি চালাতে মন চায় না। ৩০মিনিটের পথে সময় লাগে এক ঘন্টা। এতে মানুষজনও বিরক্ত হয়।’
মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচতি চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন,‘এলাকার দুইটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের দুর্দশার কারণে মানুষ ভোগান্তিতে আছেন। আমি শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাই চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব জানান, সাত কিলোমিটার সড়কের মধ্যে তিন কিলোমিটারে ভাঙাচোরা বেশি। তিনি একাধিকবার এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।  তিনি বলেন,‘ওই সড়ক দিয়েই আমার গ্রামে যেতে হয়। গত বছর এলাকার মানুষের চাপে উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দে সড়কের কিছু জায়গার খানাখন্দ ও গর্তে ইট-সুরকি ফেলা হয়েছিল। এবার সড়কের অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইিডি) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল  বলেছেন,‘এবার হবে না। এই সড়কটি সংস্কারের জন্য আগামি অর্থ বছরে প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’