হবতপুর খেওয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়ি নির্মাণের দাবি

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হবতপুর এলাকায় সুরমা নদীর খেওয়াঘাটে যাত্রী উঠানামায় সিঁড়ি ও যাত্রী ছাউনি নেই। এই কারণে বৃষ্টির দিনে উঠানামায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এই খেওয়াঘাটের নৌকায় গৌরারং, ফতেহপুর ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ নদী পারাপার হয়ে থাকেন। খেওয়াঘাটে সিঁড়ি ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীরা নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। দ্রুত সিঁড়ি ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, হবতপুরের খেওয়া নৌকায় লক্ষণশ্রী, গৌরারং ও ফতেহপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ আসা-যাওয়া করেন। সুনামগঞ্জ ও সিলেট যাতায়াতের জন্য বাইপাস যোগাযোগ হিসাবে ব্যবহার করেন থাকেন এই নদী পারাপারের খেওয়া নৌকা। সিলেট আসা-যাওয়ার যাত্রীরা গাড়ি নিয়ে আসেন হবতপুর খেওয়াঘাটে। এই খেওয়াঘাট থেকে সহজে চলে যেতে পারেন সিলেটে। সিলেটে যাত্রী রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহজ পথ এই খেওয়া নৌকায় পার হয়ে যাওয়া। যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট না থাকায় মহিলা, শিশু ও রোগীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা মালামাল নিয়েও পড়েন বিপাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা খেওয়া নৌকার যাত্রী হবতপুরের আতাউর রহমান বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই খেওয়া নৌকার ইজারা থেকে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছেন। কিন্তু খেওয়াঘাটের কোনো উন্নয়ন নেই। যাত্রীরা নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন রোদ ও বৃষ্টির দিনে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন তিন ইউনিয়নের মানুষ এই খেওয়া নৌকা দিয়ে আসা-যাওয়া করে থাকেন। কিন্তু খেওয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট না থাকায় সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা।
টুকেরঘাটের আব্দুর রউফ বলেন, খেওয়া নৌকায় যাত্রীরা যখন কষ্ট করে আসা যাওয়া করেন, তখন কষ্ট দেখে মনে খুব কষ্ট হয়। মনে হয় সরকার এই খেওয়া নৌকা থেকে কোনো রাজস্ব পান না। যাত্রীদের কষ্ট লাঘবে সিঁড়িঘাট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি আমাদের।
সুন্দর আলী ও মখলিছ মিয়া বলেন, যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট নির্মাণ না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে থাকবে। কেননা মানুষ বাড়ছে দিনে দিনে ।
টুকেরগাঁওয়ের রহিমুন নেছা ও তছলিমুন নেছা বলেন, শিশু সন্তান নিয়ে খেওয়া নৌকায় আসা-যাওয়া করতে সিঁড়িঘাট না থাকায় মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়।
ব্যবসায়ী মধু দাস বলেন, মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া মারাত্মক কষ্টের। গণ মানুষের কষ্টের কথা কারো ভাবনায় নেই। আমাদের দাবি খেওয়াঘাটে পাকা সিঁড়ি ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের।
কান্দিগাঁওয়ের রিপন বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন আসলে অনেকেই অনেক কিছু দেওয়ার আশ্বাস দেন। নির্বাচন শেষ হলে আর কারো দেখা মিলে না। এটাই আমাদের কপাল।
হবতপুর খেওয়া নৌকার ইজারাদার মুজিবুর রহমান জানান, দীর্ঘ ৩৪ বছর যাবত ইজারাদারী করছেন। অনেক সময় রোগীরা আসলে নিজে গিয়ে সাহায্য করে নৌকা থেকে উঠিয়ে পাড়ে তুলেন। সিঁড়ি ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় দোকানঘরে বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। এভাবে প্রতিদিন একাধিক রোগী সিলেটে যান চিকিৎসার জন্য। মালামাল নিয়ে আসলেও খেওয়া নৌকা থেকে তোলার ব্যবস্থা করেন।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসা-যাওয়া করেন হবতপুর খেওয়া নৌকা দিয়ে। মানুষের কষ্ট দেখে মনে হয় যদি আমাদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু করার থাকতো তবে এই কষ্ট নিরসন করে দিতাম।