Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
হাঁস পালনে ভাগ্য বদল – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

হাঁস পালনে ভাগ্য বদল

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে হাওর অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাঁস পালন। বাহারী রংয়ের নানা প্রজাতির হাঁস পালনে ভাগ্য বদল হয়েছে অনেক খামারীর। হাওর জনপদে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বা সুবিধামত স্থানে খামার তৈরী করে হাঁস পালনে ঝুঁকছেন হাওরের মানুষ। মাঠে ঘাটে দেখা যায় হাঁসের ঝাক। হাওরের মাঠে, ঘাটে, খালবিল, ডোবা বা ফসলের ক্ষেতে হাঁস চড়ানো হয়। সেখানেই দল বেধে ছুটে শত শত হাঁস। খাবার সংগ্রহ করে দিন শেষে খামারে ফিরে আসে দল বেধে। খামারীরা হাঁস পালন করে বেশ খুশী। অল্প পরিশ্রমে বেশী লাভবান হওয়ায় হাঁস পালনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
হাওরের খামারী ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বুতিয়ারপুর গ্রামের আ. খালেক, বেহেলী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কৃষ্ণধন তালুকদার, সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের মো. সেলিম জানালেন, হাওরে হাঁসের খামার এবং হাঁস চড়াতে কোন ঝামেলা নেই, রয়েছে বাড়তি সুবিধা। তাই হাঁস পালনে অনেকে ঝঁকছেন। হাঁস পালন করে দারিদ্রতা দূর করে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। কর্মসংস্থানও হয়েছে অনেকের।
জামালগঞ্জের দুর্গম জনপদ বেহেলী বদরপুর, সদরকান্দি, ফেনারবাঁকের বীনাজুরা জামালগঞ্জ সদরের নয়াহালট সহ বিভিন্ন গ্রামে হাঁস পালন হচ্ছে। হাঁস থেকে উৎপাদিত ডিম বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করছেন খামারীরা। তারা জানান, হাঁস পালনে যেমন সহজ তেমনি আবার ঝুঁকিও রয়েছে। একবার মড়ক দেখা দিলে তা কাটিয়ে উঠা কঠিন। তবে যথাযথ পরিচর্যা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন খামার এবং হাঁসের প্রতি বাড়তি নজরদারির রাখলে রোগের আক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। হাঁস পালন করে দুই একজন লোকসান গুনলেও বেশীর ভাগ খামারীরা লাভের স্বপ্ন দেখছে। এতে দিন দিন খামারীর সংখ্যা বাড়ছে।
জানা যায়, সারা বছরই হাঁস পালন করা যায়- তবে শীতের সময় হাঁস এবং হাঁসের ডিমের চাহিদা বেশী থাকায় এ সময় হাট বাজারে হাঁসের কেনাবেচা বেশী হয়ে থাকে। বেহেলী, বদরপুর গ্রামের খামারী সাইফুল ইসলাম জানান, হাওরে বেশীর ভাগ জমিতে ধান কাটা শেষ, তাই ধানের ক্ষেতে হাঁস পালনে ঝামেলা নেই। এছাড়া খাল-বিল ডোবায় শামুক, ঝিনুক সহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক খাবার খায় হাঁস। এজন্যহাঁসের খাবারের জন্য ধান ছাড়া অন্য কোন বাড়তি ঝামেলা বা খরচ নেই। হাওরে হাঁস পালনে নানা সুবিধা থাকার হাঁস পালনে তারা আগ্রহী হচ্ছেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের মহারাজ মিয়া জানান, আমি দশ বছর ধরে হাঁস পালন করছি। বাড়ির সামনে পাকনার হাওরে হাঁস পালন করি। হেমন্তে বিলের পাশে উড়া করে থাকি বর্ষায় বাড়ীর বিছরায় হাঁস নিয়ে আসি। হাঁস পালন করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছি।
তিনি বলেন, আগে ঢাকার কামরাঙ্গির চরে স্বামী-স্ত্রী শ্রমিকের কাজ করতাম। এখন হাঁস পালন করে ছেলে-মেয়ের বিয়ে শাদী সহ লেখাপড়া করাচ্ছি। আমার খামারে বর্তমানে ৫শত’ হাঁস আছে। বর্ষা গেলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বীনাঝুড়া গ্রামের নিবারন পুরকায়াস্থ, গোবিন্দ্র দাস বলেন, আমাদের খামারে বর্তমানে ৮শত’ হাঁস আছে। প্রতিদিন ৫শত’ হাঁস ডিম পারে। এই ডিম ৪০ টাকা হালি দরে পাইকাররা এসে নিয়ে যায়। হাঁসের খামার করে আমাদের কপাল খুলছে। বছরে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা আয় হয়।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল কাসেম বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২২৫টি হাঁসের খামার রয়েছেন। বেশীর ভাগ খামারের অবস্থান হাওরে। এ বছর হাঁসের কোন মড়কের খবর পাইনি। এজন্য খামারীরা বেশ লাভবান হয়েছেন। হাওরের খামারীরা দেশী হাঁসের পাশাপাশি খাকী ক্যাম্পবেল এবং জিলডিং প্রজাতির হাঁস পালন করে থাকেন। এসব হাঁস ডিম বেশী দেয়। হাঁস-পালনে লাভবান হওয়ায় অনেকে খামার করে হাঁস পালন করছেন।