হাওরাঞ্চলে কার্তিকের লাগাতার বৃষ্টি- জনজীবনে ভোগান্তি ফসলের আশীর্বাদ

স্টাফ রিপোর্টার
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায়ই জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তবে ফসলের জন্য ভাল হয়েছে। কৃষকরা বলেছেন,‘এই বৃষ্টি যেন প্রকৃতির আশীর্বাদ’।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। লাগাতার বৃষ্টিতে শহরে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জরুরি কাজ এবং অফিস-আদালতগামী ছাড়া অন্যরা বাড়ি থেকে কম বের হচ্ছেন। শহরে রিক্সা কিছুটা কমেছে।
সুনামগঞ্জ শহরে রিক্সা চালান ধর্মপাশার সেলবরসের ফজর আলী। বললেন,‘ঠান্ডা বাতাস, এরমধ্যে লাগাতার বৃষ্টি, এজন্য দুই-তিন ঘণ্টা রিক্সা চালিয়ে রিক্সা বন্ধ করে দেই।’
পাউবোর সুনামগঞ্জ অফিসের কর্মচারী রাসেল আহমদ জানিয়েছেন, ‘দুই দিন হয় ঠা-া দমকা হাওয়া হচ্ছে, ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।’
বিশ্বম্ভরপুরের মুক্তিখলার কৃষক মসিউর রহমান বলেন,‘এই বৃষ্টি রূপা আমনের উপকারে আসবে, বিশেষ করে লাইমলা আবাদ ( শেষের দিকে যারা আবাদ) যারা করেছে, তাদের ধানের জন্য ভাল হবে। জমিতে কিছু পোকার আক্রমণ ছিল। এমনি এমনি এই পোকা নষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য নতুন সবজি যারা বপন করেছেন, তাদের কিছু ক্ষতি       
 হবে। আবার আগের বপন করা সবজী চারার জন্য ভাল হবে।’ একই মন্তব্য করলেন বিশ্বম্ভরপুরের কৃষ্ণনগরের কৃষক গোলাম মজনুর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জাহিদুল হক বললেন,‘এবার প্রথম দফায় চাষাবাদ করা রোপা আমনও বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। পরে বোরো এবং আমনের ক্ষতি পোষাতে কৃষকরা রোপা আমনের চাষাবাদ অন্যান্য বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর বেশি করেছেন। এবার রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে ৭৫ হাজার হেক্টর। অক্টোবরের ২০-২১ বা কার্তিকের ৫-৬ তারিখের এই বৃষ্টিতে আমনের ফলন বেড়ে যাবে।’