বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং করে দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানাচ্ছে প্রশাসন। আগামী সপ্তাহ থেকে ঝড়-বৃষ্টি ও আগাম বন্যার পূর্বাবাসের কথা জানিয়ে এই প্রচারণা চলছে হাওরাঞ্চলজুড়ে। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হাওরে যেয়ে ধান কাটার খোঁজ নিচ্ছেন। আবহাওয়ার পূর্বাবাস অনুযায়ী অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ধান কাটার সময় কম পাওয়া যাবে এই তথ্যে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
হাওরাঞ্চলের একাধিক কৃষক জানালেন, একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে আবহাওয়া বিভাগ থেকে জানানো হচ্ছে জমির পাকা ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য এবার সময় খুব কমই পাওয়া যাবে। আগামী সপ্তাহ্ থেকে ঝড়-বৃষ্টি হবে পুরো হাওরাঞ্চলে। উজানের আসাম মেঘালয়েও ঝড় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হচ্ছে। বরাক উপত্যকায়ও পানি বেড়ে সুরমা-কুশিয়ারায় পানি বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় কম সময়ের মধ্যে ধান কাটা কীভাবে শেষ করবেন এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এমন সংকটে জেলায় যতগুলো হারভেস্টার ও রিপার মেশিন রয়েছে সবগুলোকেই মাঠে নিয়ে ধান কাটার কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সদরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, অন্যান্য বছর এক একর জমি যে সময়ে কাটা হয়েছে, এবারা এর অর্ধেক সময়ে না কাটলে পানির নীচে চলে যাবার আশংকা রয়েছে ফলানো ধান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বললেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাওরে হাওরে ঘুরে দ্রুত ধান কাটতে তাগাদা দিচ্ছেন। সিলেট, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলা থেকে শ্রমিক আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও দিরাই উপজেলায় ইতিমধ্যে অনেক শ্রমিক এসেছেন। সিভিল সার্জনের সহায়তায় উপজেলায় উপজেলায় কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি দেখভালের জন্য মেডিকিল টিম গঠন করা হয়েছে। নিরাপদ আবাসনের জন্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বরাম ও চাপতির হাওরের ধান কাটা মাড়াইয়ের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখার সময় আবহাওয়ার পূর্বাবাসের কথা জানিয়ে দ্রুত ধান কাটা শেষ করার অনুরোধ করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শ্রমিক কম এসেছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে থাকা শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী, অন্যান্য কাজের শ্রমিকরা ধান কাটতে নেমেছে। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আবহাওয়া খারাপ হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। এই অবস্থায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যে যেভাবে পারেন কৃষকদের ধান কেটে ঘরে আনতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা। একই ধরণের মন্তব্য করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট জোনের প্রধান প্রকৌশলী মো. নিজামুল হক ভুইয়াও।


