বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরের ক্লোজার বা বাঁধের ভাঙনগুলো নিয়ে এবার চিন্তিত কৃষকরা। বেশিরভাগ ক্লোজারে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে কৃষকদের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা অবশ্য বলেছেন, পানি বিলম্বে নামায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৯ টি হাওরের ১৩৫ টি ক্লোজারসহ ৬২৬ কিলোমিটার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হবে। হাওরপাড়ের কৃষকরা বলেছেন, অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের কবল থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় ক্লোজারগুলোতে বাঁধের কাজ আগে শেষ করা জরুরি। কিন্তু অনেক ক্লোজারে এখনো কাজ শুরু হয়নি।
জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার জানালেন, পাগনার হাওরে ৬ টি বড় ক্লোজার রয়েছে, এগুলো হচ্ছে গজারিয়ার খাল, মতির ঢালা, মোড়লপুরের ভাঙন. বোগলাখালী, কাউয়ার বাঁধা ও করাইততা। এরমধ্যে কেবল গজারিয়ার ঢালাতে কাজ শুরু হয়েছে। অন্যগুলোতে এখনো কাজ শুরু হয়নি। এখনো ওই ভাঙনগুলো দিয়ে হাওরের পানি নামা অব্যাহত থাকায় এবং ভাঙনের আশপাশের অংশে পানি থাকায় বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। হাওরের তলানীর উপজেলা শাল্লার হাওরগুলোর অনেক ক্লোজারেই এখনো কাজ শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষক নেতা অমর চাঁন দাস। তিনি বললেন,‘কান্দা দিয়ে পানি ঢুকে হাওর ডুবেছে,এমন উদাহরণ কম, পানি ঢুকে ক্লোজার দিয়েই। ক্লোজারগুলো আগে না বাঁধলে, ক্লোজারগুলো দুর্বল হয় এবং পানি আসলেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়।’
তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ তালুকদার জানালেন, তাঁর ইউনিয়নের বর্ধিত গুরমায় তিনটি বড় ক্লোজার রয়েছে। কোনটাতেই এখনো কাজ শুরু হয়নি। পানি না কমায় কাজ শুরু করতে পারছেন না পিআইসি’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) দায়িত্বপ্রাপ্তরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমবার সংশ্লিষ্টদের ডেকে দ্রুত ক্লোজারে কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বললেন, ১৩৫ টি ক্লোজারে বাঁধের কাজ হবে। এরমধ্যে ৬৩ টি’তে কাজ শুরু হয়েছে। পানি না নামায় অন্যগুলোর কাজ এখনো শুরু করা যায় নি। আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি আমরা।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের হাওরগুলো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবার কথা।
- ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শুরুর নির্দেশ
- সুনামগঞ্জে ডায়ালাইসিস সেন্টার, মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠুক এটি


