বাসদ (মার্কসবাদী) নামের একটি সংগঠন শুক্রবার জেলা শহরে যে হাওর কনভেনশন করেছে সেখান থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে সরকারের নিকট। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বলেছেন, এবারের মানবসৃষ্ট দুর্নীতির কারণে অকালে হাওর ডুবে ৪ হাজার ৩৯১ কোটি ২৬ লাখ টাকার বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে যার মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জ জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ১৯০৫ কোটি টাকা। বলাবাহুল্য হাওর অধ্যুষিত ছয় জেলার মধ্যে ক্ষয়-ক্ষতির দিক থেকে সুনামগঞ্জের অবস্থান শীর্ষে। দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হবিগঞ্জের ক্ষতির পরিমাণ ৬৬১ কোটি টাকা। যারা বলেন, ছয় জেলায় হাওরের ফসল ডুবলেও সুনামগঞ্জে কেন দুর্নীতির মামলা হলো, এই পরিসংখ্যানটি তাদের জানা থাকা উচিৎ। অন্যদিকে হাওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে যে মাত্রায় প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল অন্য জেলাগুলোতে কি সেরকম কণ্ঠ উচ্চকিত হয়েছিল? যাহোক হাওর কনভেনশন থেকে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা, কৃষিঋণ মওকুফ, এনজিও ও মহাজনি ঋণ আদায় দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা, বিনা সুদে নতুন ঋণ বিতরণ, শস্যবীমা চালু, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, জলমহালে ইজারাপ্রথা বাতিল, জেলে-কৃষকদের জলাশয়ে মাছ ধরার অধিকার প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ, রেশনিংপ্রথা চালু, ত্রাণ-দুর্নীতি বন্ধ, গবাদি পশুর খাদ্য সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের সবধরনের ফিস মওকুফ, নদী খনন, হাওর গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন, হাওর দুর্নীতিবাজদের বিচার, হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানকল্পে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন অন্যতম।
হাওর অঞ্চলে উৎপাদিত ধানের পরিমাণ সারা দেশের উৎপাদিত ধানের শতকরা ১৮ ভাগ। বছরে যে পরিমাণ জমিতে বোরো ধান উৎপাদিত হয় হাওর এলাকা তার এক পঞ্চমাংশ। দেশের ৩৬ ভাগ মাছ এই হাওর এলাকা থেকে পাওয়া যায়। এইসব পরিসংখ্যান হাওরের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও গুরুত্বকে প্রমাণ করে। সরকারকে এই গুরুত্ব অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে। হাওর কনভেনশন থেকে যে দাবি উচ্চারিত হয়েছে তার কোনটিই নতুন নয়। নানা সময়ে এসব দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপন করা হচ্ছে। সুতরাং কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে এসব দাবি বিবেচনা করা উচিৎ। সবচাইতে বড় কথা হলো হাওরের সমস্যার স্থায়ী সমাধানকল্পে এখন থেকেই সরকারকে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুবা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আরও ক্ষতির শিকার হবে। বলাবাহুল্য হাওরের ক্ষতিকে জাতীয় ক্ষতি হিসাবে দেখার একটি মানসিকতাও সমান জরুরি। চলতি বছরে অন্য দেশ থেকে চাল আমদানির বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা গড়ে তুলতেই এই মানসিকতা আরও বেশি দরকার।

