বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে নদীর পানি কমছে ধীর গতিতে। এর চেয়ে ধীরে নামছে জেলার কয়েকটি বড় হাওরের পানি। পাউবো সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাগরের নি¤œচাপের প্রভাব পড়েছে হাওরে। বৃহৎ কয়েকটি হাওরপাড়ের কৃষকরা বলেছেন, ‘সামান্য কাজ করলেই ২-৩ দিনের মধ্যে নেমে যাবে হাওরের পানি, কিন্তু সেটি হচ্ছে না’।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ৫ বছরে এই সময়ে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানির উচ্চতা এতো ছিল না। ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বরে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৪.১৩ মিটার, ১৭ নভেম্বরে ছিল ৪.৮ মিটার এবং ১৮ নভেম্বরে ছিল ৩.৯৭ মিটার। গত চার বছরও এমনই ছিল নদীর পানির উচ্চতা। এবার ১৬ নভেম্বরে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫. ১১ মিটার, ১৭ নভেম্বরে ৫.১২ মিটার এবং ১৮ নভেম্বরে উচ্চতা ৫. ৫ মিটার। পানির এই উচ্চতার কারণে হাওরের পানি নামছে না, বোরো বীজ বপনও শুরু হচ্ছে না। কোন কোন হাওরে আবার পানি নামতে প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকরা বলেছেন,‘পানি নামার জন্য কিছু কাজ টিআর, কাবিখা বা যে কোন উন্নয়ন বরাদ্দ থেকেই এখনই করা জরুরি।’
হাওর বাঁচাও- সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব পিসি দাস বলেন,‘বোরো বীচ বপনের সময় হয়েছে, কিন্তু পানির জন্য হাওরে কাজ করা যাচ্ছে না, শাল্লার বৃহৎ ছায়ার হাওরের পানি নামতে গেলে মাউতির বাঁধ এবং নাজিরপুরের পাশের ছায়ার বিল থেকে কুকরা খাল খনন করতে হবে। উপজেলার গিলটিয়া হাওরের পানি নেমে যাবে গিলটিয়া
স্লুইসগেটের মুখের মাটি সরানো হয়ে গেলে। একইভাবে আনন্দপুর এবং ভোলানগরের রেগুলেটরের পলিমাটি সরাতে হবে। ভেড়ামোহনা বিলের পাশের ভেতর ছাপটার বাঁধ কিছুটা কেটে দিলে ছাপাটার হাওরের পানি নামবে। ভান্ডা প্রকল্পের দক্ষিণ হাওরের পানি দ্রুত নামবে যাত্রাপুরের খালের মুখ খনন করে দিলেই।’ পিসি দাস মনে করেন, এসব কাজ করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই। টিআর, কাবিখার বরাদ্দ থেকেই এই কাজ করা যায়।
জামালগঞ্জের বৃহৎ পাগনার হাওরপাড়ের লক্ষীপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন তালুকদার জানালেন, হাওরের পানি দ্রুত নামাতে হলে লক্ষীপুর-করাটিয়া বাঁধ কেটে গভীর করে দেওয়া এবং ডালিয়া স্লুইসগেটে বিগত বোরো মৌসুমে দেওয়া মাটির বস্তা তুলতে হবে এবং স্লুইসগেটের ঢালা (কপাট) তুলে দিতে হবে। এজন্য ৫০ জন শ্রমিককে দুইদিন কাজ করলেই চলবে। একই কথা জানালেন, এই হাওরপাড়ের খামারগাঁও গ্রামের রাধাকান্ত দাস।
এই উপজেলার হাওরাইআলীপুর গ্রামের আয়না মিয়া জানালেন, বৃহৎ হালির হাওরের রাতলা স্লুইসগেটের মুখের মাটি কেটে দিলে এই হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাবে।
ধর্মপাশার টগার হাওরপাড়ের সারারকোনার বাসিন্দা অজিত সরকার মনে করেন টগার হাওরের টঙ্গি এবং বলমপুরের বাঁধ কিছুটা কেটে দিলে পানি দ্রুত নামবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘বঙ্গোপসাগরে নি¤œচাপ দেখা দেওয়ায় পানি নামার গতি কমে গিয়েছিল। এখন আবার গতি বেড়েছে। নদীর পানি নামতে শুরু হয়েছে। যেসব হাওরে দ্রুত পানি নামতে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেখানে পানি দ্রুত গতিতে নামার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসকও।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘আজ (রোববার) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় হাওরের পানি দ্রুত নামার বিষয়ে আলোচনা হবে এবং যেখানে যেমন উদ্যোগ প্রয়োজন সেটিই করা হবে।’
- শহরে আজ থেকে পুলিশ সুপার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু
- বিশ্বম্ভরপুরে জাকজমকপূর্ণ শশ্মান কালীপূজা অনুষ্ঠিত


