জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জের পাগনার ও হালির হাওরের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন হাওর বাঁচাও, জামালগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক গুল আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল হক তালুকদার, আব্দুল আহাদ, আখতারুজ্জামান তালুকদার, গোলাম হাসান আফিন্দি ও সদস্য সচিব আকবর হোসেন।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ তাঁরা করেন, গেল বছরের হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার কৃষকরা বিগত কয়েক মাস ভীষণ দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। অন্যান্য বছর কার্তিক মাসের শেষ দিকে বীজতলায় বোর ধানের চারা রোপণ করলেও বর্তমানে অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনও বীজতলা থেকে পানি সরেনি। গেল বছর পাগনার হাওরের গজারিয়া স্লুইচ গেইট ও ডালিয়া স্লুইচ গেইটে কৃষকরা ফসল রক্ষার স্বার্থে নিজ উদ্যোগে মাটি কেটে স্লুইচগেইটগুলো মাটি দিয়ে ভর্তি করে ফেলে। বর্তমানে স্লুইচ গেইট গুলোতে মাটি
থাকার ধরুন ও স্লুইচ গেইটের সামনের অংশের নালাগুলো পলি পরে ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। অপরদিকে হালির হাওরে রাতলার স্লুইচ গেইটের ভিতরের অংশ দিয়ে পানি নদীতে যাচ্ছে না। উপজেলার বড় দুটি হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন।
স্মারকলিপিতে পাগনার হাওরের গজারিয়া স্লুইচ গেইটের ঢালা খোলে দেওয়া, গজারিয়া স্লুইচ গেইটের সামনের নদীর পাড়ের নালা পুনঃখনন, ডালিয়া স্লুইচ গেইটের ঢালা থেকে মাটি সরানো, ডালিয়া স্লুইচ গেইটের পশ্চিম সাইটে ক্লোজার পুনঃখনন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ভূতিয়ারপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন পানি নিষ্কাশনের জন্য পল্টন বসানো, শান্তিপুর গ্রাম সংলগ্ন কানাইখালী নদীতে সৃষ্ট বাঁধ কেটে দেওয়া, হালির হাওরের রাতলার স্লুইচ গেইটে পল্টন বসানো ও নালা পুনঃ খনন করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বলেন, ‘বর্তমানে জামালগঞ্জের হাওরগুলোতে মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা, স্মারকলিপিটি সময়উপযোগী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাউবো ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।’


