স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের বোরো ফসলহানির বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৬ টায় জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ সফিউল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাওরে ফসলহানির বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি উঠে এসেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্তে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পাউবো কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজে অর্থ ছাড়, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ অনেক বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জে ফসল ডুবে যাওয়ার কারণ এবং হাওরে বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার ও পিআইসি’র অনিয়ম তদন্ত এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সফিউল আলম (শিক্ষা ও আইসিটি) কে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গত ৯ এপ্রিল এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ পরিচালক মো. জাহিদুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান ও সুনামগঞ্জ সদরের পিআইও মো. মানিক মিয়া।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি’র আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন,‘ হাওরের ফসলহানির বিষয়ে আমরা গভীরভাবে তদন্ত করার চেষ্টা করছি। পাউবো কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের কাগজপত্রগুলো দেখার চেষ্টা করছি। তদন্তে আমরা যা পেয়েছি তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ’ কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকাল ৬ টা ১০ মিনিটে জানান, মাত্র ১০ মিনিট আগে তদন্ত কমিটি’র আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আমার কাছে তদন্ত প্রতিদেবনটি দিয়েছেন। আমি এখনও তদন্ত প্রতিবেদনের প্যাকেট খুলে দেখিনি। দেখার পর বলা যাবে তদন্তে কি কি জিনিস উঠে এসেছে।’
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে এবার ১৫৪টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে এক লাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার তিন লাখ ২৫হাজার ৯৯০ কৃষক পরিবার। তবে স্থানীয় কৃষক-জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, হাওরের ৯০শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কৃষকেরা হাওরের ফসল হারিয়ে এখন নিঃস্ব, দিশেহারা।


