আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
হাওরের পাকা ধান ওঠা্তে জগন্নাথপুরে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনায় সোমবার ভোর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কৃষিজাত দোকান ব্যতিত উপজেলার সকল হাটবাজারের ঔষধের দোকানসহ অন্য সবধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ বাজারে ক্রয় করতে আসা লোকজন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন । ফসল দোলায় তোলার আগ মূর্হুতে এখন থেকে বিকাল চার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে প্রতিদিন। এদিকে হাওরের পাকা ধান দ্রুত কাটতে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হচ্ছে।
হাওর ঘুরে দেখা যায়, পাকা আধা পাকা ধানের শীষ দুলছে বাতাসে। শ্রমিক সংকট থাকায় কৃষক-কৃষাণি তাদের পরিবার পরিজন এবং স্বজনদের নিয়ে ফসল তোলার কাজে মাঠে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ভোর রাতে ভারীবর্ষণে অনেক কৃষককের ক্ষেতে হাট পানি জমে।ঝড় শিলাবৃষ্টি আর বজ্রপাত উপেক্ষা করে ধান কাটার কাজে লড়ছেন মাঠে।
নলুয়া হাওরপাড়ের কৃষক নেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, হাওরের পাকা ধান তোলতে এখানকার কৃষক পরিবারকে লড়তে হচ্ছে। দ্রুত পাকা ধান কাটতে আজ হাওরপাড়ের মসজিদ মাইকিং করা হয়েছে। তিনি জানান, শ্রমিক সংকটে আছেন কৃষকরা। হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হলেও হাওরে ব্যবসায়ী কিংবা বেকার কর্মহীন লোকজন এখনও ধান কাটতে মাঠে নামেন নি।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ধান কাটার শ্রমিক সংকট দুর করতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। চারটার পর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকবে। ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত এই নির্দেশনা থাকবে। আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তাই হাওরে ধান কাটার জন্য ব্যবসায়ীসহ সম্প্রতি বেকার হয়ে পড়া লোকজনকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুরে এবার ২০ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে ফসল আবাদ করা হয়েছে। হাওরে শ্রমিক সংকট দুর করতে আমরা স্থানীয় কৃষক, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, আনসার সদস্যসহ কর্মহীন মানুষকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত হাওরের ধান তোলা সম্ভব হবে। এবার বাম্পার ফসল হয়েছে বলে তিনি জানিেেছন।
- ধর্মপাশায় ইউএনও’র আহ্বানে ধান কাটলো শ্রমিকসহ ১ হাজার ৭০০ ব্যক্তি
- সুনামগঞ্জে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করবেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী


