হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি

বিন্দু তালুকদার
কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়নি। জেলার কোন হাওরেই বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করার থাকলেও কবে কাজ শুরু হবে তা জানেন না হাওরের উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি খুব শীঘ্রই বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।
চলতি বোরো মৌসুমে জেলার মোট ৩৭টি বড় হাওরসহ মোট ৪২টি  হাওরে ২৩০ টি পিআইসি’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এবারের মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
শুক্রবার জেলার ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর জামালগঞ্জ, দিরাই,শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন হাওর পাড়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোন বাঁধেই কাজ আরম্ভ হয় নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে হাওরে বোরো ধান রোপার কাজ শুরু করছেন কৃষকরা। ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের কৃষক এখলাছ মিয়া জানান, তাদের এলাকার বৃহৎ তিনটি হাওর ধারাম, সোনামড়ল ও কাইমজার হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। পিআইসির লোকজন বলছেন কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’ তিনি আরো বলেন,‘ কোন বছরই এই সময় হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হয় না। প্রতি বছরই ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বাঁধের কাজ শুরু হয়। বাঁধ নিয়ে সাধারণ মানুষের কথা শুনেন না কেউ।’
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর পাড়ের রামজীবনপুর গ্রামের কৃষক আলী আহমদ মুরাদ বলেন,‘ ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কোন প্রস্তুতিই নেই পাউবো ও পিআইসি কমিটির। এবিষয়ে পিআইসির সভাপতিকে জিজ্ঞেস করলে অস্পষ্ট কথা বলেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দেরীতে বাঁধ নির্মাণ হবে। ফলে গেল বছরের মত এবারো ঝুঁিকতে পড়বে হাওরের বোরো ফসল।’
মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন,‘এখন পর্যন্ত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এলাকার কোন হাওরেই বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। পাউবো ও পিআইসিদের কোন প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায় নি।’ বাঁধের কাছে এখন পানি রয়েছে এবং কিছুদিন পর ছাড়া মাটি পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিরাই উপ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন,‘ দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহোদয় অসুস্থ থাকায় উনার কাছ থেকে কমিটির সদস্যদের নাম পেতে একটু দেরী হচ্ছে। আমি ঢাকায় গিয়ে উনার সাথে দেখা করে কমিটিতে সদস্যদের নাম দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। পিআইসি  গঠন করতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছি না। আশা খুব তাড়াতাড়ি কমিটি গঠন ও কাজ শুরু করা হবে।’
সুনামগঞ্জ পানি   
উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ পওর উপ বিভাগ ১ ও ২ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজন দাস বলেন,‘আমাদের পিআইসি গঠনের কাজ শেষ। এখন হাওরের কাজ শুরু করার পালা। আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার পিআইসির সভাপতিদের কাজ শুরু করার কার্যাদেশ দিয়ে দিয়েছেন। খুব শিঘ্রই কাজ শুরু হবে।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছর উদ্দিনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভি করেননি তিনি।