হাওরের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জয়া সেনগুপ্তার ছয় প্রস্তাব

দিরাই সংবাদদাতা
হাওরের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষে ও আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় মতবিনিময় সভা করেছেন দিরাই—শাল্লা আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্ত এমপি।
সোমবার দুপুর ১টায় দিরাইস্থ নিজ বাসভবনে বাপাউবো’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইউএনও, পাউবোর মাঠ প্রকৌশলী, ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় তিনি হাওরের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষে ও আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় ছয়টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো হলো—
জরুরী ভিত্তিতে কালনী, সুরমা, পিয়াইন নদীসহ অন্যান্য নদীগুলো খনন।
তুফানখালী, বৈশাখী, বোয়ালিয়া, মাছুয়াখাড়া বাঁধের উভয় দিকের গভীর গর্ত ভরাট।
চাপতির হাওরে কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ পুনরায় চালু করা।
কালনী, কুশিয়ারা নদীর সংযোগ স্থাপন করে সুইচ গেইট নির্মাণ অথবা সার্ভে করে অন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কুলঞ্জ ইউনিয়নের আকিলশাহ হইতে শাল্লার প্রতাপপুর পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন ভাঙন রোধ করা।
চরনারচর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রাম রক্ষার্থে গ্রামের সামনে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ।
সভায় ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি আরও বলেন, দিরাই শাল্লা নির্বাচনী এলাকাটি একটি হাওর বেষ্টিত এলাকা। প্রতিবছরই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আগাম বৃষ্টির পানিতে এই এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। ফলে কৃষকের একমাত্র ফসল আগাম বন্যায় তলিয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রতি বছর হাওরের ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কার্যত এসব বাঁধ ফসল রক্ষায় ফলপ্রসূ হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবনায় উল্লেখিত বিষয়ে গুরুত্বারোপ না করা হলে নিরাপদে ফসল রক্ষা মোটেই সম্ভব নয়। তাই উল্লেখিত বিষয়গুলোতে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া অতীব প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। সভায় এই প্রস্তাবনাগুলোর বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তিনি সাথে সরাসরি আলোচনা করবেন বলেও জানান জয়া সেনগুপ্তা।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপাউবো সিলেট উত্তর পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী, ইউএনও মাহমুুদুর রহমান মামুন, পাউবোর মাঠ প্রকৌশলী এটিএম মোলায়েম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় প্রস্তাবনার বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবনাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবো। এগুলো বাস্তবায়িত হলে হাওরের ফসল অনেকটা নিরাপদে চলে আসবে, এমনকি পানিতে তলিয়ে যাবার কোন সম্ভাবনা থাকবে না।