হাওরে কমদামে গরু কিনতে সুযোগ নিচ্ছে বেপারীরা

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
শহীদ বেপারীর বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামে। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার ধর্মপাশা গরুর হাটে আসেন। দীর্ঘ বছর ধরে গরু কেনা বেচা করেন তিনি। সবসময় হাটের দিন এখানে আসলেও এবার তিনি একদিন আগে অর্থ্যাৎ বুধবার দুপুরেই ধর্মপাশা গরুর হাটে পৌঁছেছেন। শহীদ বেপারীর মতো আরো কয়েকজন গরুর বেপারীকে হাটের নির্ধারিত স্থানে দেখা গেলো। এদের মধ্যে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আলকদিয়া গ্রামের তাহের মিয়া ও শেখচাঁন মিয়া যৌথভাবে গরু কেনা বেচার কাজ করেন। এ দুজন বেপারী গত দুই দিনে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী, বরই, চাঁনপুর, হিজলা, শান্তিপুরসহ আশপাশের গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে ৪১টি গরু কিনে এসেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেপারীদের কাছে লাভে বিক্রি করবেন এসব গরু। তবে তারা গরুগুলো বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সস্তায় পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
বেপারী তাহের মিয়া বলেন, ‘আওরে (হাওরে) গিরস্থের (গৃহস্থ) ঘরেইতো খাওন নাই। গরুরে খাওয়াইবো কি?   তাই হেরা (তারা) হস্তায় (সস্তা) গরু বেচতাছে। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়া গরু কিইন্যা আনছি।’ তাহের মিয়ার সাথে সুর মিলিয়ে তার ব্যবসায়িক সহযোগি শেখচাঁন মিয়া বলেন, ‘গিরস্থরা যে নৌকায় দিয়া টেহা (টাকা) খরচ কইরা বাজারে আইবো হেই ক্ষমতাওতো নাই।’
উপজেলার বানারসিপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন মিয়া তিনটি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। গত হাটে তিনি আরো দুটি গরু বিক্রি করেছেন। আগের দিন কেন হাটে এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিসুধবারে (বৃস্পতিবার) গরুর বাজারে জায়গা হাওন (পাওয়া) যাইতোনা। এর লাইগ্যাই আগে ভাগে আইছি। আর ঘরেতো বিরাট অভাব। গরু বেইচ্যা সংসার চালাইতে অইবো। ঋণ শোধ করতে অইবো। যত তাড়াতাড়ি বেচতাহারি ততই মঙ্গল।’
শহীদ বেপারী বললেন, ‘গত হাটে প্রচুর লাভ পাইছি। হাওরে ফসল ডুবার সাথে সাথে গরুর খাদ্যের অভাব দেখা দিছে। তাই তারা গরু বিক্রি করে দিচ্ছে। বেশি সময় নিয়ে কেনা বেচার কাজটি যেন করতে পারি সেজন্য আগের দিন আসছি।’ বুধবার দুপুরে ধর্মপাশা গরুর হাটে প্রায় দুই শতাধিক গরু দেখা যায়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে বেপারীরা গরু কিনে এনে হাটে তুলেছেন। গরু নিয়ে হাটে এসেছেন ফসলহারা কৃষকেরা। ফসল ডুবির খবর শুনে সস্তায় গরু কেনার জন্য গত হাটেও ভীড় জমিয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গরুর বেপারীরা।