আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জিয়াউর রহমান। পেশায় তিনি পশু পাইকার। নেত্রকোনা জেলার ইটনা থানার মাওয়া গ্রাম থেকে ৩৬টি গরু নিয়ে প্রবাসি অধ্যুষিত জগন্নাথপুর পৌর শহরে ঈদের পশুর হাটে এসেছেন। সকাল থেকে বেলা দুই পর্যন্ত ১টি গরুও বিক্রি হয়নি তার। গত ২০ বছর ধরে জগন্নাথপুরে পশু বিক্রি করে আসছেন তিনি। কিন্তু এবারের মতো এত মন্দা পশুর হাট হয়নি বলে তিনি রবিবার এ প্রতিবেদককে জানান।
তার মতো অনেক পাইকার জানিয়েছেন, এবার ক্রেতাদের সমাগম থাকলেও বিক্রি হচ্ছে নিতান্তই কম। তবে অনেকে আশা করছেন ঈদের শেষ মুহূর্তে জমে উঠবে বেচাকেনা। রবিবার সকাল থেকেই জগন্নাথপুর পৌর শহরের হেলিপ্যাড এলাকায় পশুর হাট বসে প্রতিবছরের ন্যায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এবারের পশুর হাটে দেশী গরুর সংখ্যা বেশী। বিদেশী গরু নাই বললেই চলে। ক্রয় করতে আসা অনেকেই জানান, বিদেশি গরু না থাকায় দেশী গরুর দাম চড়া। সব চেয়ে ছোট গরুর দাম ৪০/৫০ হাজার টাকা। অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন শেষের দিকে দাম কমতে পারে। তখন কিনবেন।
পশুর হাটে আসা উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের ফজলু মিয়া জানান, কুরবানির জন্য গরু ক্রয় করার জন্য সকাল থেকে হাটে ঘুরছি কিন্তুু চাহিদার তুলনায় দাম খুবই বেশি। তাই কিনতে পারছি না। এবারে হাটে ছোট ছোট গরু বেশি। একেকটির দাম ৪০-৫০ হাজার টাকা।’
কুরবানির পশু কিনতে আসা আরেক ক্রেতা পৌর এলাকার হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা জুনেদ আহমদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি গরুর দাম বেড়েছে। বিদেশী পশু হাটে কম এসেছে। যে কারণে দেশী গরুর দাম চড়া।’
গরু পাইকার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের ছুরাব আলী জানান, ১০টি গরু নিয়ে এসেছি হাটে। এখনো বিক্রি হয়নি একটিও। ক্রেতারা শুধু দাম জিজ্ঞাসা করছেন। ক্রয় করছেন না। অন্য বছরের মতো দাম রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পশুর হাটের ইজারাদার আনিস আলী জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার হাটে বেচাকেনা কম হচ্ছে। আগামী হাটে বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির আলী জানান, হাওরে ফসলহানি আর দ্ইু দফা বন্যার কারণে পশুর হাটে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। শেষ মুহূর্তে পশুর হাট জমজমাট হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
- ছাতকে সুরমা সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান
- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল, সাবেক ওসিসহ ৭ জন কারাগারে- রায় ৩১ আগস্ট


