হাওরে ফসলহানির প্রভাব-জেএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১০৩৩ জন

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জের ২৯ টি জেএসসি ও ১৩ টি জেডিসি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৩ হাজার ৩৮২ জন। প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষায় দুই শাখায় অনুপস্থিত ছিল ১০৩৩ জন। শতকরা হারে প্রায় ৪ ভাগ শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। এতো বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার কারণ হিসাবে অনেকে বলেছেন,‘বোরো ফসলহানির কারণে অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় অনুপস্থিতির সংখ্যা বেড়েছে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার সুনামগঞ্জ জেলার ২৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ হাজার ৯০৮ জন, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৮ হাজার ১৯৪ জন, অনুপস্থিত ছিল ৭১৪ জন। ৯০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবারের জেডিসি পরীক্ষার্থী ছিল ৪ হাজার ৪৭০ জন। প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৪ হাজার ১৫৫ জন, অনুপস্থিত ছিল ৩১৯ জন। সবচেয়ে বেশী শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল দিরাইয়ে।
জানা যায়, জেএসসিতে সদর উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬১০ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩৫৪২, অনুপস্থিত ছিল ৬৮ জন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ২২৬৫ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২১৮৪, অনুপস্থিত ছিল ৮১ জন। ছাতক উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ৫১২৭ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৫০৫১ জন, অনুপস্থিত ছিল ৭৬ জন। জগন্নাথপুর উপজেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ২৭০৬ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৬৫৪ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫২ জন। দিরাই উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ২৮৩৫ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৭২৩ জন, অনুপস্থিত ছিল ১১২ জন। শাল্লা উপজেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ৫৮৬ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৫৭২ জন, অনুপস্থিত ছিল ১৪ জন। জামালগঞ্জ উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ১৫৫০ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৪৯৭ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫৩ জন। তাহিরপুর উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ২৩১৭ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২২৪২ জন, অনুপস্থিত ছিল ৭৫ জন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ২১৫৪ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২১০১ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫৩ জন। ধর্মপাশা উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ২৭৮৭ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৭৩৭ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫০ জন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার পরীক্ষার্থী ছিল ২৯৭১ জন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৮৯১ জন, অনুপস্থিত ছিল ৮০ জন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান বলেন,‘ বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত ছিল। তবে এবার হাওরডুবির প্রভাবও পড়েছে। গতবার যারা এক-দুই বিষয়ে ফেল করেছিল তারা সময়মত এসে ফরম ফিলআপ করতে পারে নি। অনেক শিক্ষার্থী কাজের উদ্দেশ্যে এলাকার বাইরে চলে গিয়েছিল। নতুন ২০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন অনুপস্থিত ছিল। গত বারের এক-দুই বিষয়ে ফেল করা ২৯ জনের মধ্যে ২২ জনই ফরম ফিলআপ করতে পারেনি।’
তাহিরপুরের জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সুবল বলেন,‘আমার বিদ্যালয়ের এবারের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩০ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১২৭ জন। ৩ জন অনুপস্থিত ছিল। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি হাওরের ফসলহানিসহ দরিদ্রতার কারণে দুইটি মেয়ে স্কুল ছেড়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে ও একটি ছেলে এলাকার দোকানে চাকুরি নিয়েছে।’
শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন,‘ সুনামগঞ্জে এমনিতেই শিক্ষার হার অনেক কম। তারপর জেএসসি পরীক্ষায় এত অনুপস্থিতি উদ্বেগজনক। দারিদ্রতা ও পরিবারের অসচেতনতার কারণেই সাধারণত পরীক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকগণ আরো একটু সচেতন হলে এই হার অবশ্যই কমে আসতো। ’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঝরে পড়া, দরিদ্রতা, পিতা-মাতা-অভিভাবকের অসচেতনতা, শিক্ষার্থীর অলসতা ও গাফিলতিসহ নানা কারণে অনুপস্থিতির হার বাড়ে। আমি সুনামগঞ্জের নতুন যোগদান করেছি, বিষয়টির খোঁজখবর নেব।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শফিউল আলম বলেন,‘নানা কারণে পরীক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকতে পারে। তবে শতকরা হারে এত বেশী হবে না। কারণ অনেক শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। হয়তো কেউ কেউ রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।’