হাওরে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
হাওরের তলদেশে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নামছে ধীরগতিতে। এ কারণে পিছিয়ে পড়েছে তাহিরপুরে চলতি মৌসুমের বোরো চাষাবাদ। দেখা দিয়েছে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের বৃহৎ বোরো ফসলি হাওরাঞ্চল তাহিরপুর। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এ উপজেলায় ছোট-বড় ২৩টি হাওর রয়েছে। ২৩টি হাওরে জমির পরিমাণ ২৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষাবাদ করা হয় ২০ হাজার হেক্টরে। এ বছর হাওরের পানি নামছে ধীরগতিতে। এ অবস্থায় বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক।
শনির হাওরপাড়ের গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সেলিম আখঞ্জি, শ্রীপুর দক্ষিণ গ্রামের কৃষক গোলাম সারোয়ার ডালিম, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল, নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক নির্মল তালুকদারসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহে হাওরপাড়ের অনেক কৃষকই জমি চাষাবাদের কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ করেছিলেন। এ বছর হাওরের পানি ধীরগতিতে নামার কারণে জমি রোপণের কাজই শুরু করা যায়নি। তারা আরও জানান, নদীর তলদেশ পলি মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামতে পারছে না। তাই এ বছর চাষাবাদ বিগত বছরের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। হাওরের অনেক জমিই এ বছর চাষাবাদের আওতার বাইরে থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও এ বছর ৪ দফা বন্যার কারণে চলতি বছর বোরো চাষাবাদ পিছিয়ে পড়েছে। যার ফলে উপজেলা কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, হাওরের পানি ধীরগতিতে নামছে। এ কারণে এ বছর বোরো চাষাবাদ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।
ইউএনও পদ্মাসন সিংহ বলেন, হাওরের পানি সময়মতো না নামায় এ বছর চাষাবাদ পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৌলাই নদী খনন শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলেই এ সমস্যা আর থাকবে না। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, হাওরের যে অংশগুলোতে পানি নিস্কাশন হচ্ছে না সেগুলো চিহ্নিত করে বাঁধ কেটে দেওয়া হবে।