হাওরে স্বপ্ন বুনেছে যেসব বীজ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরে হাইব্রিড, উচ্চফলনশীল এবং স্থানীয় মিলিয়ে ৮৮ জাতের ধানের চাষাবাদ এই বছর হয়েছে। এরমধ্যে ১৮ জাতের ধানের বীজে এবার কৃষকের স্বপ্ন বুনেছে। আবার উচ্চ ফলনশীল ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধান কাঁদিয়েছে কৃষককে। তবে এবারও কিছু কিছু কৃষক স্থানীয় জাতের ধান চাষাবাদ করে নিজেদের খোরাকি তুলেছেন, স্থানীয় ধান চাষাবাদে অপেক্ষাকৃত খরচ কম হয়েছে, আগে ভাগে কেটে ঘরে তোলা গেছে ধান।
সুনামগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল ২৬, হাইব্রিড ৫২ এবং স্থানীয় জাতের ১০ প্রকারের ধান এবার চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৭৪, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৬, বঙ্গবন্ধু ১০০ এবং বিনা ২৪ এবং হাইব্রিড ধানের মধ্যে জনক রাজ, হীরা, রূপালী, ময়না, টিয়া, সুগন্ধা, নাপ্পু, ঝলক এবং স্থানীয় জাতের মধ্যে শাইল, রাতা ও লালডিঙ্গি জাতের ধান ভালো হয়েছে। এছাড়া সুরভি, সিনজেন্টা ধানের বীজেও সুফল পেয়েছেন কৃষকরা।
শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের কৃষক মাখন লাল দাস বললেন, সুগন্ধা, নাপ্পু ও কৃষিবিদ চাষাবাদ করেছি। প্রতি কেয়ারে (৩০ শতাংশ এক কেয়ার, তিন কেয়ারে এক একর) ২৫-২৬ মণ ধান পেয়েছি। গত কয়েক বছর এভাবে ধান পাই নি।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের কৃষক মিলন মিয়া বললেন, চিকন জাতের মধ্যে ব্রি-৯২ এবং মোটা ধানের মধ্যে ঝলক ধানের ফলন ভালো হয়েছে। নভেম্বরের ২৫-২৬ তারিখে বীজ বপন করেছি। ডিসেম্বরের ২০-২৫ তারিখে ক্ষেতে চারা রোপন করেছি। ধান কাটা শুরু হয়েছে ১৭-১৮ এপ্রিল থেকে। চিকন ধানের ফলন হয়েছে কেয়ারে ১৮ থেকে ২০ মণ। মোটা হাইব্রিড ধান কেয়ারে ২৬ থেকে ২৮ মণ। তিনি বলেন, ফলন এতা ভালো হয়েছে, নিজেদেরই বিশ^াস হয় নি ধান দেখে।
বিশ^ম্ভরপুরের করচার হাওরপাড়ের কৃষক স্বপন কুমার বর্মণ বললেন, আমাদের হাওরে ঝলকে এবার চমক দেখিয়েছে। চিকন ধানের মধ্যে ব্রি-৮৯, ৯২ ও ২৯ ধানের বীজে এবার ধান ভালো হয়েছে।
শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত দাস বললেন, জনকরাজ, কৃষিবিদ ও হীরা’তে বাম্পার ফলন হয়েছে। কেয়ারে কম করে হলেও ২৫ মণ ধান পেয়েছেন কৃষকরা।