হাওর এখন মরুভূমি

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার যেদিকে চোখ যায়, সর্বত্রই দেখা যায় হাওরজুড়ে এক ফসলি পাকা বোরো ধান কাটছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। অথচ উপজেলা সদর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার উত্তর দিকে লোবার হাওরে গেলে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র। সেখানে চাষাবাদের চিহ্নও নেই। হাওরটির যতদূর চোখ যায়, কেবল বালুময় পতিত জমি। মনে হয় যেন একখণ্ড মরুভূমি।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাওরটি এককালে ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু ৩০ বছর ধরে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা বালু জমে হাওরটি ভরাট হয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভরাট হয়ে গেছে লোবার হাওরের ‘দিঘার’ বিলটিও।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বালুতে ভরাটের কারণে হাওরটির এক হাজার একর জমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে গেছে। তবে হাওরপাড়ের কৃষকদের দাবি, তাদের দুই হাজার একর জমি অনাবাদী হয়েছে।
হাওরপাড়ের কৃষক গোবিনপুর গ্রামের পুলিন বিহারী রায় জানান, হাওরটিতে তার ৬০ কিয়ার (১ কিয়ার= ৩০ শতক) জমি রয়েছে। জমিগুলোর ওপর ৫ থেকে ১০ ফুট উঁচু হয়ে বালু জমেছে। এসব জমিতে এখন আর কোনো ফসল হয় না। কিন্তু আগে এ জমি চাষ করেই তিনি সুখী জীবন কাটিয়েছেন।
একই গ্রামের রানা মৈত্র, জুনু মৈত্র, টুকেরগাঁও গ্রামের গৌরাঙ্গ বর্মণ জানান, লোবার হাওরে জমি থেকেও আজ তারা নিঃস্ব।
হাওরপাড়ের টুকেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি পচন বর্মণ বলেন, এককালে এ হাওরে মাছ ধরেই তারা সংসার চালিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে ঢলের পানির সঙ্গে নেমে আসা বালু যাদুকাটা নদী দিয়ে হাওরটিতে এসে পড়ে। বর্তমানে এখানে বালু পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওরটিতে কোনো ফসল হচ্ছে না। ধ্বংস হয়ে গেছে মাছের আবাসও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা বলেন, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা বালুর কারণে ফসলি জমি ভরাট হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে।