হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড উৎপাদনশীলতা বাড়ানোয় ভূমিকা রাখুক

হাওর ও জলাভূমির জেলা সুনামগঞ্জে ‘হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড’ এর আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনের বিষয়টি জেলাবাসীর জন্য একটি আনন্দজনক ঘটনা। গতকাল পানি সম্পদ মন্ত্রী এই ভবনের উদ্বোধন করেছেন। গতকাল এই বোর্ডের কার্যপরিধির উপর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে বুঝা যায়, এটি প্রচলিত হাওর উন্নয়ন বোর্ডের বিকল্প কোন প্রতিষ্ঠান নয়। বরং এটি হাওর অঞ্চলের জমি, জল ও জীবন নিয়ে বিশেষায়িত পন্থায় সমীক্ষা, গবেষণা ও পরিকল্পনা গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদন করবে। একজন উপ পরিচালকের নেতৃত্বে একজন সহকারী পরিচালক, ২জন ডাটা সংগ্রহকারী ও অন্যান্য সহায়ক কর্মচারী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বাংলাদেশের বিশাল একটি অংশ হাওরাঞ্চল। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ মিলে দেশের সর্ববৃহৎ হাওর অঞ্চলটি গঠিত। এই বিশাল হাওরাঞ্চলে রয়েছে বোর চাষের জন্য বিশাল জমির ভাণ্ডার, এই জমিই বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে মাছের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আবার এই হাওরাঞ্চলে রয়েছে অনেক ছোট-বড় বিল ও জলাশয়। এই বিল ও জলাশয়গুলো হরেক প্রজাতির দেশীয় জাতের মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। ধান ও মৎস্য সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার হিসাবে হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব বরাবরই জাতীয়ভাবে স্বীকৃত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বিশাল হাওরাঞ্চলের উৎপাদনশীলতা কী উপায়ে আরও বাড়ানো যায় এবং এই এলাকার ফসল উৎপাদনকে কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা যায় সে নিয়ে তেমন কোন গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের উৎসাহ নেই। হাওর উন্নয়ন বোর্ড নামক প্রতিষ্ঠানটি গতানুগতিক দর্শন অনুসারে ফসল রক্ষায় যেসব অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে তার কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠছে। কারণ বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এইসব অস্থায়ী বাঁধ মোকাবিলা করতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। তদুপরি অকাল বন্যা ছাড়াও রয়েছে খড়া, শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় যা প্রতিরোধে হাওর উন্নয়ন বোর্ডের কিছুই করণীয় নেই। হাওরাঞ্চলের একমাত্র ফসল বোরো ধান উৎপাদনের পর বছরের ৮ মাস এইসব জমি অব্যবহৃত পড়ে থাকে। বর্ষার জলমগ্ন হাওরকে উৎপাদনশীল উপায়ে ব্যবহারের কোন কার্যকর উপায় উদ্ভাবিত হয়নি এখনও। ফলত ওই ৮ মাস হাওরাঞ্চলের কৃষকদের হাতে কোন কাজ থাকে না। মৌসুমী বেকারত্বের তীব্রতা তাই হাওর অঞ্চলে বেশি। এই বেকারত্ব দারিদ্রতা দূরিকরণের একটি প্রধান অন্তরায়। তাই হাওর নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রের কোন অভাব নেই বলেই আমরা মনে করি। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড যদি বিশেষজ্ঞ ধ্যান-ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে তাহলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের কৃষিজ ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে নানা বৈজ্ঞানিক উপায় উদ্ভাবিত হতে পারে।
আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠানের কোন অভাব নেই। অভাব হলো সুষ্ঠু কার্য পরিধি এবং বিশেষায়িত পন্থায় কার্য সম্পাদনের।। অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে বাস্তবে যেগুলো তেমন কোন কাজ করছে বলে কারও কাছে পরিষ্কার নয়। এইসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক খরচের নামে জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকার অপচয় ভিন্ন আর কিছু করছে বলে মনে হয় না। নবগঠিত হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডও যদি এরকম একটি মাথাভারী অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় তাহলে এলাকাবাসীর কোন লাভ হবে না।  প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা হাওর ও হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে যে আশার বাণী শুনিয়েছেন কার্যক্ষেত্রে যদি সেরকম কিছু দুশ্যমান হয় তাহলেই আমরা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের কার্যকারিতা খুঁজে পাব। তাই ভাল কিছুর আশায় সামনের দিনগুলোতে এই বোর্ডের কার্যক্রমের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন সকলে।