হাওর পাড়ে কৃষক পরিবারের দুর্দশা

পি সি দাশ, শাল্লা
বিভিন্ন হাওর নিধনকারী বাঁধগুলোর দুর্নীতি পরায়ন ঠিকাদার, পিআইসি ও পাউবোর অবহেলা এবং অর্থলোভের কারণে বৈশাখে বর্ষা হল শাল্লায়।
পানিতে ২২ হাজার হেক্টর বোরো ফসল তলিয়েছে যেখানে উৎপাদন হত ৭৮ হাজার মে. টন ধান, যার বাজার মুল্য ২৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বলে উপজেলা মাসিক সভায় জানিয়েছে উপজলা কৃষি অফিস।
আজ হাওর পাড়ের কৃষক পরিবার যাদের জন্য অনাথ, অসহায়,ও কৃষকের ভাগ্যে যোগ করেছে দুর্দশা তাদের বিচার চায় হাওর পাড়ের মানুষ। আর এ দুর্দশার জন্য পিআইসি, ঠিকাদার,পাউবোই দায়ী । যে সব বাঁধ ভেঙ্গে হাওর তলিয়ে এ দুর্দশা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বরাম হাওর । পিআইসি সভাপতি লাল মিয়ার ১২ লাখ টাকার প্রকল্পের কাদিরপুরের বাঁধ ভেঙ্গে বিনষ্ট হল বরাম হাওর। তার পর দিন জোয়ারিয়া প্রকল্পের ৩ ঠিকাদারের প্রকল্প (বরাদ্দের পরিমাণ জানা যায়নি)  দিয়ে পানি প্রবেশ করে  তলিয়েছে জোয়ারিয়াসহ শাল্লার হাওর। তার একদিন পর সুখলাইন মৌজার গৌরারি নামে একটি ছোট হাওরের পিআইসি বাহাড়া ইউপির চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরীর প্রায় ১০ লাখ টাকার  প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়েছে হাওরটি।
তার পর দিন বাউশি নোয়াগাঁওয়ের পাশে (মেস্তুরবাড়ির খাল) পিআইসি সভাপতি আজিজুল হকের আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প যেখানে ১ হাজার         
মাটিও  ফেলেনি সেই বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে মাছুয়ারকাড়া পিআইসি দুলাল মিয়ার ১৪ লাখ টাকার প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়েছে ঘিলুটিয়া হাওর। তার পরের  দিন বান্ডা প্রকল্পের হবিবপুর ও হরিনগরের উত্তর পাশের ঠিকাদারের প্রকল্পে কাজ না করায় সেদিকে এবং পাশে পিআইসি সভাপতি আভা রানী তালুকদারের প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে ঘাগানী হাওরটি তলিয়েছে । তার ২ দিন পর জয়পুর, লৌলারচর গ্রামের মধ্যবর্ত্তী স্থানে মরা নদীর মুখে (কাজাউরা খালের) বাঁধের পিআইসি প্রদীপ ভৌমিকের ১৪ লাখ টাকার বাঁধ ভাঙ্গার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ামতপুর গ্রামের পাশে বাঘড়াধড়ার পিআইসি সীতিল চন্দ্র দাসের সাড়ে ১৫ লাখ টাকার বাঁধ ভেঙ্গে বিশাল ছায়ার হাওর তলিয়েছে। তার ২ দিন পর কালিয়াগুডা হাওরের পিআইসি আবুল মিয়ার ১৩ লাখ টাকার বাঁধ ও পিআইসি বসির মিয়ার ১৩ লাখ টাকার প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে কালিয়াগুডা হাওরে পানি প্রবেশ করেছে । এই দিন রাতে কাঠগাং বাঁধের পিআইসি আম্বিয়া বেগমের ১০ লাখ টাকার বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়েছে কালিয়াগুডা পশ্চিম হাওর ।
এ নিয়ে গিলোটিয়া হাওর পাড়ের কাশিপুর গ্রামের তৈয়ব আলী,ফখরুল মিয়া জানান, এবছর শাল্লার সবকটি বাঁধের কাজ নামমাত্র হয়েছে। কিন্তু পাউবো যোগসাজসে বিল উঠিয়েছে ৩ কিস্তি। কিন্তু গ্রামের পাশে প্রায় ১৩ লাখ টাকার কাশিপুরের বাঁধে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
তারা বলেন এলাকার অনেকেই জানেইনি পিআইসি’র  টিপু সুলতান দিঘা প্রকল্প নামে এবছর আরও একটি ৭ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প তৈরি করে সেখানে  ১ হাজার মাটিও কাটেনি । তারা এসব দুর্নীতির বিচার দাবি করেন ।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরী বলেন, জনগণের মঙ্গল চিন্তা না করে এবার ঠিকাদাররা কাজেই করেনি। আর পিআইসিরা সামান্য কাজ করেছে। এলাকার মানুষ বাঁধে কাজ না করলে হাওর বহু আগেই তলিয়ে যেত। তিনি বলেন এইসব দুর্নীতিবাজরা কাজের চেয়ে অর্থ লোপাটের চেষ্টায় ছিল বলেই আজ আমাদের এ অবস্থা ।  প্রত্যেক প্রকল্পে বাঁধের অনুপাতে ৩ গুণ বেশী অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পরও কেন হাওর ডুববে, প্রশ্ন তার।  এ জন্য তিনি  ঠিকাদার, পিআইসি, পাউবোর দুর্নীতিবাজদের  আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করার দাবি জানান ।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী বলেন, মুখে অনেকেই জনগণের সেবক বলে দাবি করেন, এবার হাওর রক্ষা বাঁধের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের কার্যক্রম দেখে মনে হয়েছে তারা কেমন সেবক। যারা জনতার সাতে বেইমানি করেছে তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।