স্টাফ রিপোর্টার
ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) এর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সুনমাগঞ্জের বোরো ফসলহানি রোধে ভবিষ্যত করণীয় প্রসঙ্গে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
শনিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের একটি রেস্ট হাউজ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভায় বোরো ফসলহানির কারণ ও আগামীতে ফসল রক্ষায় কী করণীয় এই নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন আইইবি’র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের প্রধান আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মুর্শেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)’এর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, আইইবির কাউন্সিল ‘ল’ মেম্বার অধ্যাপক মাহতাব উদ্দিন, ড. প্রকৌশলী লুৎফুর রহমান ও প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান।
আইইবি’র প্রতিনিধি দলের প্রকৌশলীগণ বলেন,‘হাওরের বোরো ফসলহানির পর সৃষ্ট দুর্যোগ আমাদের নজরে এসেছে। তাই আমরা এসেছি হাওর পরিদর্শন ও হাওরপাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলতে এবং আগামী ফসল রক্ষায় করণীয় কী এ বিষয়ে মতামত সংগ্রহ করতে। হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে কারিগরি বিষয়ে কী পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে তা নিয়ে কাজ করছি আমরা। আমাদের পরিকল্পনা লিখিত আকারে সরকারের কাছে জমা দেব। ’
এসময় পাউবোর সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকি বক্তব্য রাখেন। সভায় পাউবোর সুনমাগঞ্জের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পাউবোর সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন,‘সুনামগঞ্জের বোরো ফসলহানির ঘটনায় পাউবোর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ-অনুযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলা হয়েছে, একজন প্রকৌশলী গ্রেফতার হয়েছেন। যারা অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে এখনও এ্যাকশন চলছে। তবে যে কোন প্রকারেই হোক সকলের সহযোগিতায় আমরা আগামী বোরো ফসল রক্ষা করতে চাই।’
সভায় পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন- ‘হাওর বাঁচাও – সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’এর আহবায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, যুগ্ম আহবায়ক আবু সুফিয়ান, দৈনিক সুনামকন্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ দে, অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ, দৈনিক জনকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি এমরানুল হক চৌধুরী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।
বোরো ফসল রক্ষায় ভবিষ্যত করণীয় সম্পর্কে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন,‘ভরাটকৃত সকল নদী খনন করতে হবে। অতিরিক্ত পানির কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনা ও জরিপের সময় স্থানীয় কৃষকদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় সকল প্রকল্প এলাকায় বাংলায় সাইনবোর্ড দিতে হবে। পাউবো কর্মকর্তাদের কমিশন বাণিজ্য বন্ধ ও বাঁধ রক্ষায় কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে সরেজমিনে কাজ করানো, পাউবো’র লোকবল বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঁধ নির্মাণে সকল অনিয়ম-দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করা, প্রত্যেকটি বাঁধের পরিমানমত স্লোব রাখা, বাঁধের গোড়া থেকে মেশিন দিয়ে মাটি না তোলা, বাঁধের মাটির কমপেকসনের কাজ ঠিকমত করা, বাঁধের দুই পাশে ঘাস লাগানো প্রয়োজন। তাহলে হয়তো বাঁধ রক্ষা পাবে এবং চৈত্র মাসে কৃষকের বোরো ফসল পানির নিচে যাবে না। ’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, সদস্য বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী ভানু, লেখক সুখেন্দু সেন হারু, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, অ্যাড. রুহুল তুহিন, জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক সবুজ সিলেটের জেলা প্রতিনিধি আকরাম উদ্দিন, চ্যানেল২৪ এর জেলা প্রতিনিধি এআর জুয়েল প্রমুখ।
- শিক্ষক সংকটে দ. সুনাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা- ৯৭টি’র মধ্যে ৬৯ টিতে নেই প্রধান শিক্ষক
- ‘তারা কুরবানি না দিলে আমাদের গোস্ত খাওয়া হবে না’


