বিশেষ প্রতিনিধি
হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সময়মত শুরু হওয়া নিয়ে এবারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোন কোন উপজেলায় এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন হয়নি। আবার কোথাও কোথাও পিআইসি গঠন হলেও ঘোষণা হয়নি। কয়েকটি উপজেলার হাওর রক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠন হয়েছে। কাজের পরিমাপও (সার্ভে) শেষ হয়েছে কিন্তু বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, ‘যারা পিআইসি গঠন বা ঘোষণা করেননি, তাঁদেরকে যত দ্রুত সম্ভব পিআইসি গঠন এবং যারা সার্ভে হবার পরও কাজ শুরু করেননি তাঁদের দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জের ১১ টি উপজেলার বৃহৎ ৩৬ টি হাওরসহ ৪৮ টি হাওরে এবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির তত্বাবধানে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ হবে ১০৩১ টি পিআইসির মাধ্যমে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত জেলার সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পিআইসি গঠন করা হয়েছে। দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুরে পিআইসি গঠন হলেও ঘোষণা হয়নি। ছাতক ও দোয়ারাবাজারেও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়াধীন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত বোরো মৌসুমেও সঠিক সময়ে সঠিকভাবে হাওর রক্ষা বাঁধে কাজ না হওয়ায় জেলার সব কয়টি হাওরের
ফসল ডুবে প্রায় সোয়া ৩ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এই বছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের নীতিমালা পরিবর্তন করে জমি যার-তঁাঁদের দিয়ে পিআইসি গঠন করে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হবার কথা থাকলেও সোমবার পর্যন্ত জেলার কোথাও বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিমাপ দল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কানলার হাওর, তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওর, ধর্মপাশার সোনামড়ল হাওর, তাহিরপুরের শনির হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর, ধর্মপাশার জয়ধুনা হাওর ও চন্দ্রসোনার তাল হাওরের পরিমাপ শেষ করেছে। এই হাওরগুলোতেও সোমবার পর্যন্ত বাঁধের কাজ শুরু হয়নি।
হাওরপাড়ের জনপ্রতিনিধিদের কেউ বললেন,‘হাওর থেকে পানি এখনো নামেনি, এখন কাজ শুরু করলে মাটি পেতে সমস্যা হবে। আবার কেউ কেউ বললেন, পরিমাপ হলেও কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি, এজন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’
ধর্মপাশার জয়শ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বললেন,‘আমার ইউনিয়নে সোনামড়ল ও চন্দ্রসোনার তাল হাওরের কিছু অংশ পড়েছে। হাওরে এখনো প্রচুর পানি। অন্য বছর যেমন দ্রুত পানি নেমেছে, এবার সেভাবে নামছে না। এখন বাঁধের কাজ শুরু করলে মাটি পেতে সমস্যা হবে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বললেন,‘আমার ইউনিয়নের কানলার হাওরে রোববার কেবল সার্ভে শেষ হয়েছে। কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। কার্যাদেশ দিলে কাজ করতে কোন সমস্যা নেই।’
পিআইসি গঠন এবং কাজ যথা সময়ে শুরু না হওয়া প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘নতুন নীতিমালার আওতায় এবারই প্রথম কাজ করায় উপজেলা কমিটির প্রথম দিকে নীতিমালা বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। সকল উপজেলায়ই পিআইসি গঠনের কাজ শেষ। দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ছাতক ও দোয়ারায় এখনো ঘোষণা হয়নি। তাঁদেরকে দ্রুত ঘোষণা দেবার জন্য বলা হয়েছে। যেখানে সার্ভে শেষ হয়েছে, সেখানকার কোন কোন উপজেলা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি চূড়ান্ত সার্ভে করার অপেক্ষা করছেন। এবারের নীতিমালায় বলা হয়েছে প্রাথমিক পরিমাপ বা সার্ভে করার পরই কাজ শুরু করা যাবে। সুতরাং যেখানেই সার্ভে শেষ হয়েছে, সেখানকার চুক্তিপত্র সম্পন্ন করে কার্যাদেশ দ্রুত দেবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি এই সপ্তাহেই যেখানে সম্ভব কাজ শুরু করা যাবে।’


